বেপরোয়া মাইক্রোবাসের ধাক্কা- মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে পিতৃ-মাতৃহীন প্রিয়া

সোহেল তালুকদার, দ. সুনামগঞ্জ
বেপরোয়া মাইক্রবাসের ধাক্কায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে মাতৃহারা ৪ বছরের শিশু প্রিয়া। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, প্রিয়ার ২ পায়ের হাঁটুর উপরে হাড় ভেঙে আলাদা হয়ে গেছে। মাথায় প্রচ- আঘাত থাকায় প্রিয়া এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে প্রিয়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২য় তলার ১৭নং মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহ¯পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের রাস্তার সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কে সুনামগঞ্জগামী বাংলালিংক কো¤পানীর একটি মাইক্রোবাস (নোহা-ঢাকা মেট্রো চ- ৫১-২৩০৪) গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে প্রিয়াকে ধাক্কা দেয়। এতে প্রিয়ার দুই পা ভেঙে যায় এবং মাথায় প্রচ- আঘাত পায়। এসময় ঘাতক চালককে আস্তমা গ্রামের হাসান মাহমুদ তারেক ও এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় ধাওয়া করে শান্তিগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
আহত প্রিয়ার গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলাধীন বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে। তার পিতা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী হওয়ায় প্রিয়া বাবার আদর থেকে বঞ্চিত জন্মের পর থেকে। সেই সাথে প্রিয়ার জন্মের পর প্রিয়ার মা সবাইকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে চলে গেলে প্রিয়া মা-বাবার আদর থেকে একেবারেই বঞ্চিত হয়ে যায়। তখন থেকে প্রিয়া তার চাচা-চাচি ও ফুফুর কাছে লালিত-পালিত হয়ে আসছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা কান্দিগাঁও (মাদ্রাসাপাড়া) গ্রামে প্রিয়ার ফুফুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি বিশ্বনাথের চন্দ্রপুর গ্রামে তার দাদির সাথে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টায় আহত প্রিয়ার চাচা মো. মতছির আলী বাদী হয়ে মাইক্রোবাস চালক সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে মো. শাহ জাহান আহমেদকে (৩২) আসামী করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৪, তারিখঃ ০৫.০৭.২০১৮ইং।
জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এস আই রেনু মিয়া বলেন, ‘মাইক্রোবাস চালক সুনামগঞ্জ জেল হাজতে রয়েছে। মাইক্রোবাসটি আটক আছে। চালক ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’