বেশিরভাগ উপজেলা ছাত্রলীগ নড়বড়ে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ উপজেলায় দেশের বৃহৎ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নড়বড়ে অবস্থা। সংগঠনের স্থানীয় নেতৃত্বে কোন্দল এবং মূল দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে যুগের পর যুগ কমিটি না হওয়ায় সংগঠনে এমন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন ধরেই দুই কমিটি কাজ করছে। গত বছরের ২৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হলেও এখনো এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
জেলার ১১ উপজেলার দুইটিতে (দিরাই ও শাল্লায়) স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের অনুমোদিত কোন কমিটি হয়েছিল কী-না, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেন না। তবে গত ২০ বছরে ছাত্রলীগের অনুমোদিত কোন কমিটি এই দুই উপজেলায় হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। দোয়ারাবাজারে ২০১২ সালের পর আর সম্মেলন হয়নি। ধর্মপাশায় দুই কমিটি নিজেদের অনুমোদিত দাবি করে আসছে। অন্যান্য উপজেলায়ও দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই।
দিরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দাবিদার পারভেজ রহমান নিজেই স্বীকার করলেন, তিনি দুই সন্তানের জনক, তাঁর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল মিয়াও দুই সন্তানের জনক। ২০১০ সালে স্থানীয়ভাবে তারা আহ্বায়ক কমিটি করেছিলেন। পরে ২০১১ সালে তাকে সভাপতি এবং উজ্জ্বল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি করা হলেও এটি কারো কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি। পারভেজ রহমান বললেন,‘আমি নিজেই আর ছাত্রলীগ করতে চাই না, জেলা কমিটিও কোন দায়িত্ব পালন করছে না।’
শাল্লা উপজেলায় ছাত্রলীগের দায়িত্বে কে? উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পিসি দাস এবং উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলতে পারলেন না। এঁরা দুজনেই বললেন, ‘২০ বছরের মধ্যে ছাত্রলীগের এই উপজেলায় কোন অনুমোদিত কমিটি হয়েছে বলে জানা নেই।’
জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরুজ ইসলাম বললেন,‘৬-৭ বছর হয়েছে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির। আমরা নতুন কমিটি চাচ্ছি, যারা নৌকার পক্ষে কাজ করে, পরিশ্রমি, ত্যাগি, নিবেদিত এদেরকে দিয়েই কমিটি চাচ্ছি আমরা। জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এই বিষয়ে সমন্বয় হচ্ছে না। আমাদের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করছে না। এই উপজেলায় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ততা নেই, এমন কাউকে সংগঠনের দায়িত্ব দিলে কেউ মানবে না।’ এই উপজেলার আরেক ছাত্রলীগ নেতা জানালেন, তারা শুনেছেন কমিটি গঠনের জন্য ইতিমধ্যে ২৫০ বায়োডাটা সংগ্রহ করেছেন জেলা নেতারা, কিন্তু কমিটি গঠনের কোন তোড়জোড় নেই।
দোয়ারা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রতন লালা দাস বলেন,‘২০১২ সালের পর আর দোয়ারাবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়নি। দোয়ারা উপজেলা ছাত্রলীগ সম্মেলন করতে চায়, কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সময় দিচ্ছেন না।
তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবুল বাশার বলেন,‘একবছর আগে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছিল। এখন আবার কমিটি করার জন্য শতাধিক বায়োডাটা নেওয়া হয়েছে। আমি আর ছাত্রলীগ করবো না। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটি করতে চাইলে, আমি সহায়তা করবো।’
ধর্মপাশায় ছাত্রলীগের দুই কমিটি। এক কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, আরেক কমিটির সভাপতি আবু সাদাত তিতাস এবং সম্পাদক মনিরুজ্জামান মোহন। দুই কমিটিই নিজেদের বৈধ দাবি করছে।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন দাবি করলেন ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছেন তাঁরা। খুব শীঘ্রই তাহিরপুর, জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কমিটি দেওয়া হবে। দিরাই-শাল্লায় ঈদের পর হবে কমিটি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। আগামী ২ মাসের মধ্যে জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। গঠনতন্ত্রে জেলা কমিটি ১৫১ হবার কথা থাকলেও বড় জেলা হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দে বলেন,‘নতুন জেলা কমিটি গঠনের পর জাতীয় নির্বচন এবং পরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংগঠনের নেতা কর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নেই এসব উপজেলায় কমিটি করার জন্য ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে এবং স্থানীয় সকলকে সমন্বয় করে আমরা খুব শীঘ্রই উপজেলা কমিটি করার কাজ শেষ করবো, জেলা কমিটিও পূর্ণাঙ্গ করবো।’
মুঠোফোন রিসিভ না করায় এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য যুক্ত করা যায়নি।