বোরো ধানের দাম বৃদ্ধিসহ কৃষকদের নানা দাবিতে স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে হাওরের কৃষকদের পক্ষে পাঁচ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জেলা কৃষক সমিতি, খেতমজুর সমিতি ও হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জের হাওরে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হয়নি। উৎপাদন খরচের চেয়ে ধানের দাম অনেক কম হওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এখন বাজারে ধানের প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয়শ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা। অথচ প্রতিমণ ধান উৎপাদনে কৃষকদের খরচ হয় সাড়ে ৯০০টাকা। ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরকারিভাবে এবার ধানের দাম ধরা হয়েছে এক হাজার ৪০টাকা। জেলায় এবার প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। অথচ জেলায় সরকারিভাবে এবার ধান ক্রয় করা হয়েছে মাত্র ছয় হাজার মেট্রিক টন। এই ধানও অনেক এলাকায় প্রকৃত কৃষকেরা গুদামে দিতে পারছেন না। মধ্যস্বত্বভোগী ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন এই ধান গুদামে দিচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কৃষকেরা ধানের প্রকৃত দাম না পেলে কৃষির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এমনিতে প্রতি বছর অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরের বোরো ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। গত বছর হাওরের ফসলহানির পর কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। এবার ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার প্রায় সাড়ে তিন লাখ কৃষক হতাশ।
স্মারকলিপিতে সুনামগঞ্জে কৃষকদের কাছ থেকে বেশি করে সরকারিভাবে ধান ক্রয়, ধানের দাম প্রতিমণ এক হাজার ৫০০টাকা নির্ধারণ, গ্রামে গ্রামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং ফসল তোলার সঙ্গে সঙ্গে এপ্রিল মাস থেকেই সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধানক্রয় শুরু করা, একই সঙ্গে হাওরে বর্ষা মৌসুমে জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ‘হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’র আহবায়ক রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, যুগ্ম আহবায়ক আফতাব উদ্দিন, সদস্যসচিব চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা কৃষক সমিতির যুগ্ম আহবায়ক আফাজ উদ্দিন, মঙ্গল মিয়া, কৃষক এরশাদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব, বাউল নওশাদ মিয়া, ওমর ফারুক, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সহ সভাপতি ও সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি দ্বীপাল ভট্টাচার্য্য, সরকারি কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদ মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় চন্দ্র কর, ছাত্র নেতা মোজাম্মেল আলম, আখলাস মিয়া, জীতেন্দ্র দাস, সুজন তালুকদার পিযুষ সরকার প্রমুখ ।