বৌলাই নদী খনন, নদীর মাটি নদীতেই ফেলা হচ্ছে কেন?

তাহিরপুর উপজেলা অংশের বৌলাই নদীর তলদেশের প্রশস্ততা প্রায় ৩০০ ফুট। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর গভীরতা বাড়াতে তলদেশের ৩০ ফুট অংশ খনন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই খনন কাজের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হয়েছেন। ৯ মার্চ থেকে খনন কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, নদীর তলদেশের খননযোগ্য অংশ খনন করে তলদেশেরই অখননযোগ্য অংশে খননকৃত মাটি রাখা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, নদী খননের মাটি নদীতেই থাকছে। স্থানীয়রা এই ধরনের খনন কাজকে সরকারি অর্থের অপচয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, নদীর মাটি যদি নদীতেই থাকে তাহলে নদীর গভীরতা বাড়বে কীভাবে? এই মাটি তো আবার যে অংশ খনন করা হয়েছে সেই অংশেই চলে যাবে। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর খনন কাজ কেবল শুরু হয়েছে। খননকৃত মাটি নদীতে থাকবে না। এই মাটি সরিয়ে নেয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথার মধ্যে আপাতত এক ধরনের সস্তা যুক্তি থাকলেও এই বক্তব্য থেকে যে কথাটি প্রমাণিত হয় তা হলো ৭ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা খরচ করে বৌলাই নদীর ৬.৭ কিলোমিটার অংশ খনন কাজ অপরিকল্পিতভাবে শুরু করা হয়েছে। নদী খননের প্রাক্কলন করার সময়েই উত্তোলিত মাটি কোথায় রাখা হবে সে সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া থাকে। এবং ঠিকাদারকে খনন শুরু করার পর থেকেই যথাস্থানে মাটি রাখার কথা। কিন্তু ঠিকাদার সেটি না করে নদীর মাটি নদীরই অন্য অংশে রাখছেন। তারা পরে যে এই বিপুল পরিমাণ মাটি সরিয়ে নিবেন এর নিশ্চয়তা কী? সাধারণত আমরা নদী খনন কাজে বড় বড় ড্রেজারের ব্যবহার দেখি। কিন্তু বৌলাই নদী খনন করা হচ্ছে এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে। এও আরেক ব্যতিক্রম বটে। এরকম এক অদ্ভুত অবস্থা দিয়েই শুরু হলো বৌলাই নদী খনন কাজ।
নদী খনন নিয়ে এক ধরনের রাখঢাক অবস্থা রয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদী খনন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এর কিছুই জানে না। বিআইডব্লিউটিএ বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনেই এসব খনন কাজ পরিচালিত হয়। স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের খনন কাজ সম্পর্কে অবহিত না করায় এর নাগরিক নিরীক্ষা কার্যক্রম একেবারেই অনুপস্থিত থেকে যায়। অথচ বর্তমান সরকার এই নাগরিক নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এখানে কার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কিছুই জানানো হয় না তা আমাদের বোধগম্য নয়। যে কাজে গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয় সেখানে সবকিছুতেই সন্দেহ তৈরি করে। বৌলাই নদীর চলমান খনন কার্যক্রম নিয়েও তাই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বেশ সংশয় প্রকাশ করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব স্থানীয় সচেতন মহলের সন্দেহ দূরীভূত করা।
সবচাইতে জরুরি বিষয় হলোÑ খননকৃত মাটি যাতে নদীর তলদেশের অন্য অংশে ফেলা না হয় সেটি নিশ্চিত করা। পরে সরিয়ে নেয়া হবে এই ধরনের মামুলি আশ্বাসে আমরা বিশ্বাস করি না। শুরু থেকেই প্রাক্কলন অনুসারে কাজ করতে হবে। ঠিকাদার কার্যাদেশের প্রতিটি শর্ত মেনে চলতে বাধ্য। ঠিকাদারের ব্যত্যয় কিংবা গাফিলতি তদারকি করে বের করার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। যদি তারা সেটি না করে ঠিকাদারের ইচ্ছার কাছে সমর্পিত হন তাহলে আমরা বুঝব, ভিতরে কোনো গোপন সমঝোতা আছে। নদী খননের অভিজ্ঞতা আমাদের খুব বেশি ভাল নয়। অথচ এই অঞ্চলের অকাল বন্যা রোধে নদী খনন অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই জায়গায় আমরা পাউবোর আরও দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি।