ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জেলা প্রশাসনের চিঠি

বিশেষ প্রতিনিধি
করোনাকালে ছুটি না নিয়েই নিজের কর্মস্থল বা জনগণের পাশে না থাকায় সুনামগঞ্জের চার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক। ঈদের আগে মন্ত্রণালয়ে এই চিঠি পাঠানো হয়। ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে না থাকা এই চেয়ারম্যানরা হলে- জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তৈয়ব মিয়া, পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মুখলুছ মিয়া, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফুল মিয়া। এই চার জনপ্রতিনিধির তিন জনেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল হাসিম জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ্ থেকে কর্মস্থলে নেই। তিনি ছুটির একটি আবেদন করে, ছুটি মঞ্জুর হবার আগেই কর্মস্থল ছেড়ে চলে গেছেন।
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মুখলুছ মিয়া ছুটি না নিয়েই পহেলা জুলাই দেশের বাইরে যান। তিনিও প্রায় এক মাস কর্মস্থলে ছিলেন না।
সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. তৈয়ব মিয়া এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে যান। পরে ই-মেইলে আরও এক মাসের ছুটির আবেদন করেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০০৯’এর বিধিমালা অনুযায়ী ইমেইলে ছুটির আবেদন বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফুল মিয়া জুন থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত কর্মস্থলে ছিলেন না। তার ইউনিয়নের নাগরিকদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মানুষের কঠিন দু:সময়ে ইউপি চেয়ারম্যান কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে ভারতে চলে যান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালকের পক্ষ থেকে ঈদের ছুটির আগে এই চার চেয়ারম্যানের বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া মুঠোফোনে জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেই ছুটিতে গেছেন। তারা তার আবেদন মঞ্জুর করেন নি। তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় উন্নত চিকিৎসায় অন্যত্র নিয়ে যাবার জন্য তিনি ১০-১২ দিন কর্মস্থলে ছিলেন না।
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মুখলুছ মিয়া বললেন, ছুটি না নিয়ে একমাস অনুপস্থিত ছিলাম এই তথ্য সঠিক নয়। আমার ভাতিজাসহ স্বজনরা অসুস্থ থাকায় আমি পহেলা জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত লন্ডনে ছিলাম। যাওয়ার সময় আমি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন দিয়ে গেছি। কলকলিয়া ইউনিনয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম ও সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তৈয়ব মিয়ার ফোন বন্ধ থাকায় এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায় নি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, করোনাকালে এবং তিন দফা বন্যায় মানুষ চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। সরকার নানা সহযোগিতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের অনেক কাজ ছিল, এখনো এসব সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মানবিক বিবেচনায় তারা এসময়ে মানুষের পাশে থাকা জরুরি ছিল। তারা নিজেরাতো মানুষের পাশে থাকেন নি। ছুটি নিয়ে বা কাউকে দায়িত্ব দিয়েও যান নি। যোগাযোগ করে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে, না হয় রিসিভ করেন নি। এই অবস্থায় বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য ঈদের আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।