ব্যাপক প্রচার ও প্রদর্শনের মাধ্যমে ইভিএম জুজুর ভয় কাটানো হোক

ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশন বেশ আগ্রহী বলে বোধ হচ্ছে। শুক্রবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা সিলেটে বলেছেন, নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএমের ব্যবহার করা হবে। এদিকে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের তীব্র বিরোধী। নির্বাচন কমিশন ও ইভিএম তৈরির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসটির কার্যকারিতা নিয়ে নিঃসন্দেহ হলেও বিএনপি এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান। বাংলাদেশে প্রচলন হতে যাওয়া ইভিএম’র যে বৈশিষ্ট্য ও কার্যপদ্ধতি ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি তাতে এটিকে একটি ভাল ইলেকট্রনিক ডিভাইসই বলা যেতে পারে। গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য থেকে যতটুকু জানা যায়, একটি ইভিএম মেশিনে ৩ থেকে সাড়ে তিন শ’র মত ভোট কাস্ট করানো যায়। তাই ওই পরিমাণ ভোটারের ন্যাশনাল আইডি’র তথ্য একটি চিপস’র মাধ্যমে এক একটি ইভিএমে ডাটা হিসাবে দেয়া থাকবে। সংশ্লিষ্ট ভোটার আঙুলের ছাপ মেশিনের নির্দিষ্ট স্থানে দিলে তার ব্যক্তিগত তথ্যাবলী মেশিনের স্কিনে ভেসে উঠবে। তখন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ভোট দানের পরবর্তী ধাপে ভোটারকে নিয়ে যাবেন এবং স্কিনে প্রার্থীদের প্রতীক ভেসে আসবে। ভোটার পছন্দমত প্রতীকে চাপ দিয়ে ভোট প্রদান করবেন। বলা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায় কোন জাল ভোট দেয়ার সুযোগ নেই এবং কম সময়ে ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষ করা যাবে। প্রযুক্তি সর্বাবস্থায় অভিনন্দনযোগ্য। প্রযুক্তিকে অস্বীকার বা গ্রহণ না করে এগিয়ে যাওয়ার কোন পথ নেই। পৃথিবীতে অনেক দেশে মেশিনে ভোটদান প্রক্রিয়া চালু আছে এবং সেসব দেশে এ নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা হয় না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও মেশিনে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভারতে কোন কেন্দ্রেই তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হয় না। সারা দেশের ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট তারিখে ভোট গণনা করা হয়। ভোট গ্রহণ ও গণনার মধ্যে ১৫ দিন পর্যন্ত ব্যবধান ঘটে থাকে। কিন্তু ভারতে এ নিয়ে ভোটাররা কোন প্রশ্ন বা অবিশ্বাস করেন না। নির্বাচন কমিশনের উপর রয়েছে তাদের অগাধ আস্থা। এই আস্থার কারণে মেশিন কিংবা মানুষ- যে পদ্ধতিতেই ভোট নেয়া ও গণনা করা হোক না কেন, মানুষ সেখানে আস্থা স্থাপন করেন। আমাদের দেশে সম্ভবত এই আস্থার জায়গাটি আমরা তৈরি করতে পারি নি। আর পারি নি বলেই ভোটদান পদ্ধতিকে সহজিকরণ করার একটি প্রযুক্তির ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রবল আপত্তি তোলা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে আস্থার এই সংকট কাটিয়েই ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার কার্যকর করতে হবে।
গত সিটি নির্বাচনে সীমিত আকারে যেসব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে কোন আপত্তি শোনা যায় নি। সুতরাং জাতীয় নির্বাচনে যদি সীমিত আকারে এই মেশিন ব্যবহার করা হয় তাহলে কেন আপত্তি উঠবে আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের কাছে মনে হয় ইভিএম মেশিন নিয়ে যে ভীতি বা অহেতুক ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে, নির্বাচন কমিশন ব্যাপক আলাপ-আলোচনা ও অবহিতকরণের মাধ্যমে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। ইভিএমকে সকলের কাছে পরিচিত করতে গতকাল শেষ হওয়া উন্নয়ন মেলায় এর প্রদর্শন করা হয়েছে। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনামগঞ্জে এই প্রদর্শন দেখে গেছেন। ইভিএমকে ব্যাপকভাবে প্রচারের এই কাজটি এখন সবসময় নানা উপায়ে চালু রাখতে হবে। প্রচার এবং প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে বর্তমান আস্থা কেটে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।