ব্যয় ৪৩ কোটি টাকা নির্মাণ হচ্ছে ১০ তলা আদালত ভবন

বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অবকাঠামো জনিত দুর্ভোগ হ্রাস করতে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নতুন ভবন।
৪৩ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পূর্ব দিকে এই ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। জেলার সুউচ্চ এই আধুনিক ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে জেলা গণপূর্ত বিভাগ। ফরিদপুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্টার লাইট সার্ভিস লিমিটেড এন্ড দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (জেভি) এই অবকাঠামো নির্মাণ করছে।
সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন চালু হলে সংশ্লিষ্ট সবার দুর্ভোগ লাঘব ও কাজে গতিশীলতা আসবে বলে দাবি করেছেন, সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ড. অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন ও সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এনামুল হক এনাম।
নাজির এনামুল হক এনাম জানান, আদালতের অবকাঠামো সংকটের কারণে সবারই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আদালতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেটসহ মোট ১০ জন বিচারকের পদ রয়েছে। কিন্তু আদালতে কক্ষ রয়েছে মাত্র চারটি। যার কারণে পালা করে একই কক্ষে দিনে একাধিক বিচার কার্য পরিচালিত হচ্ছে। বিচারকের পদও শূন্য রয়েছে। গত ৬ মাস ধরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর পদ শূন্য।
তিনি আরও বলেন,‘সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চরম অবকাঠামো সংকটের কারণে আমরা বাড়ান্দায় বসে অফিস করি। আমাদের ১০২ জন কর্মচারী রয়েছে। সবার বসার জায়গা নেই। নতুন ভবন নির্মাণ হলে অবকাঠামো সংকট দূর হবে। আমরা আশা করি দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে ও আমাদের সবার দুর্ভোগ লাঘব হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের তত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পূর্বদিকে নতুন আদালত ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ছিল। কিন্তু ঠিকাদার নানা কারণে সময় মত কাজ শুরু করতে পারেননি। গত কয়েক মাস ধরে পুরোদমে চলছে ভবন নির্মাণ কাজ। তবে ২০২০ সালের জুন মাসের আগে কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী নৃপেন্দ্র পাল।
জানা যায়, ২০ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গার উপর নির্মাণ করা হবে ১০ তলা ভবন। ভবনের ফাউন্ডেশন ১২ তলা। ২৫৩ ফুট লম্বা ও ৭৬ ফুট প্রস্ত বিশিষ্ট এই ভবনে থাকবে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা। ভবনের মাঝে থাকবে তিনটি লিফট, একটি ভিআইপি ও দুইট সাধারণ যাত্রীদের। ভবনের দুইদিকে দুইটি ও মাঝে দুইটিসহ মোট চারটি প্রশস্ত সিঁড়ি থাকবে। ভবনের চারদিকে থাকবে প্রশস্ত রাস্তা, পেছনে থাকবে একটি বিদ্যুতের সাব স্টেশন ও ৩০ হাজার লিটার পানির রিজার্ভার।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নৃপেন্দ্র পাল বলেন,‘ নানা জটিলতা ও প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশ না থাকায় বর্ষাকালে ভবনের কাজ করা সম্ভব হয়নি। গর্তের মাটি ভরাট ও মাটির নিচে পাইলিং করতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। ভবন নির্মাণের কাজ এখন পুরোদমে চলছে। প্রতি মাসেই একটি করে ছাদ নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে ২০২০ সালের জুন মাসের আগে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। ’
সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ড. অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন বলেন,‘জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে সবাই দুর্ভোগ পোহান। নতুন ভবন নির্মাণ হলে আদালতের বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিচারপ্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে। বিচার কার্যসহ সকল কাজেই গতি ফিরবে। এটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অবদান। আমরা চাই ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হোক। ’
সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের তদারককারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আলী আহমদ বলেন,‘চলমান প্রকল্পের মধ্যে এটাই জেলার সবচেয়ে উঁচু ভবন। আমরা ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসেই ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দিয়েছিলাম। কিন্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েক মাস কাজ করতে পারেনি তারা। এছাড়া ওই জায়গায় গভীর গর্ত ছিল। মাটি ভরাট করতে অনেক সময় লেগেছে। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি অক্টোবর মাসেই শেষ হয়ে যাবে। তবে কাজ শেষ করতে আরও এক বছর সময় লাগতে পারে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। ’