ব্রুকোলি চাষ করে সফল আশরাফুল

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামে কৃষক আশরাফুল ইসলামের বাড়ি। কৃষক বাবার পথ অনুসরণ করেই তিনি গত কয়েক বছর ধরে কৃষি কাজ শুরু করছেন। গত দুই বছর পর পর অকাল বন্যায় বোরো ফসল হারিয়ে তিনি এক ছটাক ধান তুলতে পারেননি। দিশেহারা হয়ে পড়েন পরিবার পরিজন নিয়ে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু করেন ব্যাপকভাবে সবজির আবাদ। গ্রামের এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর পতিত জমিতে শুরু করেন ফুলকপি, বেগুন, লাউ চাষ। এসব সবজির ফলন তাকে অভাব অনটনের সংগ্রাম থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে চলার সুযোগ করে দেয়।
এবার তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু করেন এ উপজেলাবাসীর কাছে অপরিচিত সবজি ব্রুকোলি চাষ। দেখতে ফুলকপির মতো হলেও এক ধরনের সবুজ সবজি ব্রুকোলি। খেতে খুব সুস্বাদু। প্রথমে অনেক ভয়ে ব্রুকোলির চাষ করেন আশরাফুর। যদি বিক্রি করতে না পারেন তাহলে ক্ষতির সন্মুখিন হবেন। কিন্তু ব্রুকোলি চাষ করার পর আশরাফুলের আশা পূরণ করেছে। একজন সফল সবজি চাষী হিসেবে জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলামের হাত থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে পেয়েছেন সফল সবজিচাষীর পুরস্কার।
এক কেদার জমিতে ব্রুকোলি চাষ করে তিনি বাম্পার ফলন পেয়েছেন। প্রথমে স্থানীয় বাজারে ক্রেতারা কিনতে না চাইলেও ক্রেতাদেরকে বুঝানোর পর এখন তিনি বিক্রি করে কুল পাচ্ছেন না। বাজারে নিয়ে গেলে নিমিষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তাঁর উৎপাদিন নতুন সবজি ব্রুকোলি ।
আশরাফুল জানান, জগন্নাথপুর ডিগ্রী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পেরে তিনি বাবার সাথে কৃষি কাজে জড়িয়ে পড়েন। বাবার মৃত্যুর পর কৃষি কাজ করেই তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়। এবার ব্রুকোলি চাষ তাকে সবজি চাষে আরো বেশী উৎসাহিত করে তুলেছে। তিনি আরো বড় পরিসরে নতুন নতুন সবজির আবাদ করে উপজেলাবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চান।
তিনি জানান, প্রতিটি ব্রুকোলি আমি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছি। এক কেদার
জমিতে ব্রুকোলি চাষ করতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ব্রকোলি পেয়েছেন এক হাজার সাতশত।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন,আশরাফুল একজন পরিশ্রমী সবজিচাষী। কৃষি বিভাগ তাকে যেরকম পরামর্শ দিয়েছে সেভাবে কাজ করেই তিনি ব্রকোলি চাষে সফল হয়েছে। তিনি বলেন নতুন এ সবজিকে আমরা জগন্নাথপুরে পরিচিত করে তুলতে উপজেলা সদরসহ আশপাশের কয়েকটি হাটবাজারে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করি। তিনি বলেন, আমি নিজে উপস্থিত হয়ে ব্রুকোলির গুণাগুণ বিষয়ে বুঝানোর পর ক্রেতারা খুব আগ্রহভরে নিয়েছেন। তিনি বলেন,ব্রকোলি চাষ করে আশরাফুল সফল হয়েছেন। আগামীতে আরো ব্যাপকভাবে তিনি ব্রকোলির চাষ করবেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রকৃতির যে বিরূপ অবস্থা সেক্ষেত্রে বোরো আমনের পাশাপাশি সবজি চাষ প্রয়োজন। এ উপজেলায় অনেক পতিত জমি রয়েছে যেগুলোতে কোন ধরনের চাষাবাদ হয় না। এসব জমিতে সবজি চাষ করা গেলে কৃষকরা উপকৃত হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে একটি জনপ্রিয় সবজি। এর ডাটা এবং ফুল সাধারণত সিদ্ধ করে এবং বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খাওয়া হয়ে থাকে। অনেকে কাঁচাও খেয়ে থাকেন। এটি এমন একটি সবজি যাতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম কিন্তু ব্রুকোলি ভিটামিন, মিনারেল আর ফাইবার এ পরিপূর্ণ। প্রত্যেকদিন খাবারে ব্রুকোলি রাখলে তা আপনার সুস্বাস্থ্যের কারণ হতে পারে। ব্রুকোলিতে রয়েছে অধিক পরিমাণে পটাশিয়াম, যা স্নায়ুতন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করে সুস্থ আর রোগমুক্ত রাখে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ধিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীল জানান, আশরাফুলের ব্রুকোলির গল্প কলকলিয়া ইউনিয়ন ছাড়িয়ে উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তার ব্রুকোলির বাগান দেখতে যাচ্ছেন। আগামীতে আরো অনেক সবজি চাষে ব্রুকোলিতে আগ্রহী হবেন। তিনি বলেন কৃষক পর্যায়ে জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো আশরাফুল ব্রুকোলিতে আশা জাগানিয়া সাফল্য অর্জন করেছেন।



আরো খবর