ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শাহীনের পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শাহিন আলমের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দুপুরে টিফিনের ৫ টাকা, ১০ টাকা করে সংগ্রহ করে সেই টাকা জমা দেন প্রধান শিক্ষকের কাছে। উপজেলার ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীর টিফিনের সেই টাকা জমা করা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।
উপজেলার ৮ টি মাধ্যমিক ও ৩ টি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠানো টাকা একত্রে করে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৫৯ টাকা হয়। চিকিৎসা সহায়তার ব্যাগ ভর্তি খুচরা টাকা তোলে দেয়া হয়েছে শাহিন আলমের হাতে। বুধবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান অসুস্থ শিক্ষার্থী শাহিন আলমের হাতে চিকিৎসা সহায়তার ওই টাকা তোলে দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজ কার্যালয়ে শাহিন আলমের বাবাসহ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে শাহিনের হাতে এই টাকা তোলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল হাসেম, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ, সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম, ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার, জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান, জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চক্রবর্তী, জামালগঞ্জ সদর ইউপির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র শাহিন আলমের বাবা সাদির মিয়া একজন শ্রমিক। ২ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সেই পরিবারের বড় সন্তান। জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের নয়াহালট গ্রামের বাসিন্দা তারা। তাদের নিজের কোন জমি-জমা নেই। কিন্তু শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। শাহিন আলমের বয়স কম ও শুরুতেই রোগটি ধরা পড়ায় চিকিৎসা করে শংকামুক্ত হওয়া সম্ভব। তবে ক্যান্সার প্রতিরোধী কেমোথেরাপি দিতে প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকার। কিন্তু সেই সামর্থ নেই তার পরিবারের। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী উদ্যোগ নিয়েছেন সম্ভবনাময় মেধাবী কিশোরের অকালমৃত্যু রোধ করতে। এতে প্রয়োজন শুধু ৭ লাখ টাকা। তাই নয়াহালট গ্রামবাসী ও তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় সমাজের বিত্তশালীসহ সবার আর্থিক সহযোগিতা চাইছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘শিক্ষার্থী শাহিন আলমকে বাঁচাতে সমাজের সকলের এগিয়ে আসা উচিত। তার জটিল রোগের বিষয়টি জানার পর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা দুপুরের টিফিনের ৫ টাকা, ১০ টাকা করে সংগ্রহ করে ব্যাগে ভরে আমার কাছে পাঠিয়েছে। সেই টাকা সবার উপস্থিতিতে তার হাতে তোলে দেয়া হয়েছে। সকলের আর্থিক সহযোগিতা পেলে সে চিকিৎসা করে দুত সুস্থ হয়ে উঠবে।’
শাহিন আলমকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা ও যোগাযোগ: মোবাইল: ০১৭৬৫-৮৭৭১৩৫, ডাচ্ বাংলা মেবাইল ব্যাংকিং নং- ০১৭৬৫ ৮৭৭১৩৫৯ ও সাদির মিয়া, সঞ্চয়ি হিসাব নম্বর-৭৮৭৮০, পূবালী ব্যাংক লি. জামালগঞ্জ শাখা, সুনামগঞ্জ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষার্থী শাহিন আলম নিয়ে ‘শিক্ষার্থী শাহিন আলম বাঁচতে চায়’ শিরোনামে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।