বয়স বাড়িয়ে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা/ মহিলা পরিষদের চেষ্টায় বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
মেয়েটির বয়স ১৫ বছর। বয়স চার বছর বাড়িয়ে জন্মনিবন্ধন করে এই অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েটিকে বিয়ে দেবার অপচেষ্টা করছিলো পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় ডাক্তারি সার্টিফিকেট নেয়া হলো। সেটি দেখিয়ে ৪ বছর বাড়িয়ে করা হয়েছিল নতুন জন্মনিবন্ধন।
বিয়ের দিনে এরকম খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করার উদ্যোগ নেন। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে।
মেয়েটি উপজেলার আমবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। বিদ্যালয়ের দেয়া তথ্যমতে ২০০৭ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে জন্ম তার। আঠারো বছর না হওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির উদ্দিনের সহায়তায় প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহ করে পরিবার। প্রত্যয়নপত্রে ইউপি সদস্য বাছির উদ্দিন লিখেছেন, মেয়েটির জন্ম ২০০৪ সালের পহেলা জানুয়ারি।
এই প্রত্যয়নপত্র ডা. জিএইচএম মাসুদুর রহমানকে দেখিয়ে মেডিকেল সার্টিফিকের সংগ্রহ করা হয়। পরে এই দুই ডকুমেন্ট দিয়ে নতুন জন্মনিবন্ধনে ৪ বছর বাড়িয়ে বুধবার বিয়ের আয়োজন করে পরিবার।
মহিলা পরিষদের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এনামুল হক স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে যান। এনামুল হক ২ দিন আগে করা জন্ম নিবন্ধন দেখে মেয়ের বয়স সঠিক আছে বলে মত দেন।
মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিদ্যালয়ের ডকুমেন্ট দিলে বিয়ে বন্ধ করা হয়। পরে মেয়েকে আঠারো বছর হবার আগে বিয়ে দিবেন না বলে অঙ্গিকারনামায় সই দেন মেয়ের মা ও নানা।
পনেরো বছরের মেয়েকে উনিশ বছর উল্লেখ করে ডাক্তারি সার্টিফিকেট দেবার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জিএইচএম মাসুদুর রহমান বলেন, এরকম ভুল হবার কথা নয়। হয়তো অন্য মেয়েকে দেখিয়ে সার্টিফিকেট নিয়েছে। আর তখন ইউপি সদস্যের সুপারিশপত্র ছিলো। ইউপি সদস্যের দায়িত্ব এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেবার। তিনি যেহেতু সুপারিশ করেছেন, তাই আমি সার্টিফিকেট দিয়েছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির উদ্দিন বলেন, আমাকে বলা হয়েছে মেয়ের ১৯ বছর হয়ে গেছে। মেয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর আর পড়েনি। তাই আমি বিদ্যালয়ের ডকুমেন্ট খোঁজ না করে প্রত্যায়নপত্র দিয়েছি। এখন স্কুলের ডকুমেন্ট পাবার পর বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি।
সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরী ভট্টাচার্য্য বললেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে ছোট ছোট মেয়েদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে। নতুন জন্ম নিবন্ধন করার ব্যাপারে দায়িদ্বশীলরা গুরুত্ব ও বাল্য বিয়ে বন্ধে সবাই কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন আশা করি।