ভবনের ভূমিদাতাদের আমন্ত্রণ না জানানো দুঃখজনক বললেন যুগ্ম সচিব সাবিরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার
‘দ. সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন, আমন্ত্রণই জানানো হয়নি অর্ধ কোটি টাকার ভূমিদাতাকে।’
শিরোনামে গত শুক্রবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদটি নজরে পড়েছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বার্তা সম্পাদক বিন্দু তালুকদারের ফেসবুক পোস্টে এই সংবাদটি শেয়ার করা হলে বিষয়টি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব (সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক) মো. সাবিরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে লিখেছেন,‘ বিষয়টি দুঃখজনক, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড বিষয়টি দেখবেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন।’
যুগ্ম সচিব মো. সাবিরুল ইসলামের এই মন্তব্যের জবাবে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ লিখেছেন,‘ বিষয়টি যাচাই করে অবশ্যই দেখা হবে। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী স্যারের নির্দেশনা যদি ইউএনও যথাযথভাবে ব্যবস্থা না নিয়ে থাকে তাহলে এটি অবশ্যই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দাওয়াত না দেয়ায় জমিদাতা পরিবারের সন্মানিত সদস্যবৃন্দের প্রতি আমি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। ইউএনও বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেন না।’
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামের শহীদ পরিবারের সন্তান গোপেন্দ্র কুমার তালুকদার ও তার সহোদয় অতুল কৃষ্ণ তালুকদার তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পশ্চিমপাশে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদরের পাশে শান্তিগঞ্জ বাজার এলাকায় পঞ্চাশ হাল মৌজায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জন্য ৫ শতক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে ১৫ শতক ও প্রেসক্লাবকে ৪ শতক জমি দান করেন। দানকৃত জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতক প্রায় ৫ লাখ টাকা করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের গায়ে ভূমিদাতা হিসেবে তাদের নাম মুদ্রিত থাকার কথা থাকলেও তাও করা হয়নি। গত শুক্রবার (১০ মে) উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হয়।
ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি ভূমিদাতাদের। এনিয়ে হতাশ হয়েছেন ওই ভূমিদাতারা।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১১ মে পাকহানাদার বাহিনী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামের গয়ানাথ তালুকদার অরফে তারানাথ তালুকদারকে গুলি করে মির্মমভাবে খুন করে। সেই শহীদ গয়ানাথ তালুকদারের সন্তান গোপেন্দ্র কুমার তালুকদার ও অতুল কৃষ্ণ তালুকদার।