ভবন নয়, কাজ দেখতে চান সুনামগঞ্জবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি ও সাব্বির আহমদ
কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ভবনে আছে ৮ টি অফিস কক্ষ। কনফারেন্স রুম, রেস্ট হাউসে ৪ টি আধুনিক রুম। গাড়ি’র গ্যারেজসহ নানা কিছু। এটি বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জের অফিস ভবন। শহরের ষোলঘর এলাকায় সুরমা নদীর পাড়ে মনোরম পরিবেশে করা হয়েছে এই ভবন। একই প্যাটার্নের আরেকটি অফিস আছে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে। হাওর জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় অফিস ৭২ গ্রীন রোড, ঢাকায়। সুনামগঞ্জে এই দপ্তরের দৃষ্টিনন্দন অফিসে একজন অফিস সহকারী, একজন অফিস সহায়ক ও একজন দারোয়ান ছাড়া কেউ নাই। সুনামগঞ্জবাসীর দাবি কেবল ভবন নয়, হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুরু হোক দ্রুততার সঙ্গে।
২০১৬ সালের শুরু’র দিকে অফিস সহায়ক আবুল কালাম এখানে নিয়োগ পান। এর ২-৩ মাস আগে পরে অন্য দুজনেরও (অফিস সহায়ক ও দাড়োয়ান) নিয়োগ হয়। এই তিন বছর এরা ভবন দেখাশুনা করা ছাড়া তেমন কোন কাজ করেননি।
অফিস সহকারী আবুল কালাম জানালেন, হাওর বিষয়ক জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থেকে, সভায় আলোচ্য বিষয়ের তথ্য লিখে পাঠানো ছাড়া তেমন কোন কাজ এখানে নেই। এছাড়া দেশব্যাপী সার্ভে’র অংশ হিসাবে এখানে যেসব উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্ভে করতে আসেন, তাঁদেরকেও সময় দেওয়া লাগে তাদের।
বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, এই পর্যন্ত এই অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে (ইধৎহর) বন্নী বোরোর উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্ব), সেন্ট্রাল ওয়েস্টার্ন ওয়েটল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এন্ড লাইভলিহুইড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, কিশোরগঞ্জ জেলার নদী সুরক্ষা কাজ, কিশোরগঞ্জ জেলায় তরঙ্গ কর্মের বিরুদ্ধে গ্রাম সুরক্ষা, কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রাক-বর্ষার বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সারফেস জলের পরিমাণ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য বিল, হাওর ইত্যাদির পুন:খননের সম্ভাব্যতা যাচাই (জানুয়ারী ২০১৬- জুন, ২০১৮), জল ধারণ এলাকার উন্নয়ন, প্রত্যন্ত এলাকার পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, নদী খনন ও ভূমি উন্নয়ন, বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চল পরিচালনার জন্য জলাভূমিগুলির স্পটিয়াল ডেটা অধিগ্রহণ।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই আলোর মুখ দেখেনি।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, প্রথমে হাওর উন্নয়ন বোর্ড নামে এই দপ্তরের কার্যক্রম শুরু হয়, এখন বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর নামে কাজ হচ্ছে। হাওর ও জলাভূমির উন্নয়নে এই দপ্তরের কাজ করার কথা। কিন্তু গত ৩ বছরে এই দপ্তর তেমন কিছুই করতে পারেনি। সরকারের উচিৎ এই দপ্তরকে দ্রুত সচল করে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা। অর্থাৎ হাওর ও জলাভূমি নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করা।
সুনামগঞ্জে শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলামিন চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের হাওর দুর্যোগের সময় শাল্লায় এসে বলেছেন, হাওরবাসীর জন্য তিনি আন্তরিক। সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্য মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীও সব সময় বলেন, হাওরবাসীর উন্নয়নে আন্তরিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করবো, হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে হাওরবাসীর জন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সদস্য করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘হাওরের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা পূর্বক হাওরের উন্নয়ন করার জন্য বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি অধিদপ্তরকে সক্রিয় করা প্রয়োজন। তাদের নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেই হাওরবাসী সুফল ভোগ করবে।’
বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, এক সময়ের হাওর উন্নয়ন বোর্ডকেই ২০১৬ সালে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর করা হয়েছে। এর জন্য ১১৮ জনের জনবল কাঠামোর অনুমোদন হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ জন থাকবেন সুনামগঞ্জে। এখন ঢাকার অফিসে ৫ জন কর্মকর্তা প্রেষণে কাজ করছেন। জনবল নিয়োগের অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। জনবল নিয়োগ শেষে অন্যান্য কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে।