ভল্টে রক্ষিত সব সোনা ঠিকই আছে -অর্থ প্রতিমন্ত্রী

সু. খবর ডেস্ক
ভল্টে রক্ষিত সব সোনা ঠিকই আছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কাজ করতে গেলে সামান্য কিছু ধারণাগত বা জ্ঞানগত ফারাক সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। ৪০-৮০-র একটি ব্যাপার হয়ে গেছে। সোনার ওজন পরিমাপে বেশি-কম হতে পারে। উভয় কর্তৃপক্ষ বলেছে এবং আশ্বস্ত করেছে, সোনার কিছুই হয়নি। প্রতিবেদন তৈরিতে কিছু আমলাতান্ত্রিক গাফিলতি আছে বলে তিনি মনে করেন।
গাফিলতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি হবে কি না, তা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করব। আমরা আবারও বসব। জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী (অর্থমন্ত্রী) বিদেশে আছেন। তিনি দেশে ফেরার পর সবকিছু জানাব। তারপর সিদ্ধান্ত হবে, এ বিষয়ে কোনো কমিটি গঠন করা হবে কি না।’
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ইউনুসুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুল হক, শুল্ক গোযে ন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. সহিদুল ইসলাম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নূরুল আবছার, কমিশনার অব কাস্টমস (শুল্ক, মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা) মইনুল খান, এনবিআরের সদস্য (আন্তর্জাতিক চুক্তি) কালিপদ হালদার, শুল্ক গোযে ন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুর রহমানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা সোনায় অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ভল্টে জমা রাখা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি মিশ্র বা সংকর ধাতু হয়ে গেছে। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।
দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। গত জানুয়ারিতে কমিটি শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয়। গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়। পরিদর্শন দল ভল্টে রাখা সোনার যাচাই-বাছাই শেষে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। তার মধ্যে প্রথম পর্যবেক্ষণ ছিল একটি সোনার চাকতি ও আংটি নিয়ে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে তারা দাবি করে, জমা রাখা সোনার পরিমাণে কোনো হেরফের হয়নি। সোনার পরিমাণ একই আছে। বাংলা চার আর ইংরেজি আট দেখতে একই রকম বলে লিখতে ভুল হয়েছিল। এটি করণিক ভুল (ক্ল্যারিকেল মিসটেক)।
‘ছিল সোনার চাকতি হয়ে গেল অন্য ধাতু’ এ তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হাসান। বলেন, ‘যিনি সোনার চাকতিটি ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন, তিনি নিজে এসে সেটা পরীক্ষা করে লিখিত প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন যে চাকতিটি যেভাবে জমা রাখা হয়েছিল, সেভাবেই আছে।’ এ ছাড়া এ চাকতির সোনার বিষয়ে করণিক ভুল (ক্ল্যারিকেল মিসটেক) হয়েছে। ব্যাংকের কারেন্সি অফিসার (মহাব্যবস্থাপক) আওলাদ হোসেন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের দেওয়া সোনা জমা রাখার সময় সোনা ৪০ শতাংশই ছিল। কিন্তু ইংরেজি-বাংলার হেরফেরে সেটা ৮০ শতাংশ লিখে ভুলবশত নথিভুক্ত করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত স্বর্ণকার এই ভুল করেছিলেন।
‘২২ ক্যারেট সোনা হয়ে গেল ১৮ ক্যারেট’ এমন তথ্যও সঠিক নয় বলে দাবি করেন নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত স্বর্ণকারের মাধ্যমে সোনার মান যাচাই করা হয়। তাঁরা কষ্টিপাথরে সোনার মান যাচাই করেন। অন্যদিকে, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর সোনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মেশিন ব্যবহার করেছে। বাইরে থেকে ভাড়া করা মেশিনের মাধ্যমে তারা সোনার মান যাচাই করেছে। তাই সোনার মানের হেরফের হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন করা ছাড়াও গতকাল রাতে এ বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক ও সহকারী মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি বস্তুুনিষ্ঠ ও সঠিক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট এলাকা একটি মহানিরাপত্তা এলাকা। সেখানে ছয় স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। এ ভল্ট থেকে স্বর্ণ পাল্টিয়ে অন্য ধাতু রাখার কোনো সুযোগই নেই।