ভাইয়াপি কুস্তি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের মাঠে মঙ্গলবার দিনভর জমজমাট দাওয়াতি কুস্তি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ এই খেলা উপভোগ করেন। কাঠইর ইউনিয়নের মাগুরা, এরালিয়া, কেশবপুর ও সোয়াপুর গ্রামের লোকজন এই খেলার আয়োজন করেন। এই চার গ্রামের পক্ষ থেকে দাওয়াত দিয়ে আনা হয় জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াহালট গ্রামকে।
আয়োজকেরা জানান, প্রতি বছর হাওরে বোরো ফসল গোলায় তোলার পর গ্রামের মাঠে এই দাওয়াতি কুস্তি খেলা হয়। বিভিন্ন গ্রামকে দাওয়ার দিয়ে আনা হয় খেলার জন্য। এবার আনা হয়েছে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াহালট গ্রামকে। ওই গ্রামের খেলোয়াড়সহ লোকজন আগের দিন অর্থাৎ সোমবার বিকেলেই চলে আসেন। শতাধিক লোকের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেন আয়োজকেরা। এ জন্য এলাকায় একটি গরু জবাই করে বাড়ি বাড়ি মাংস পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দাওয়াতি লোকজনকে বিভিন্ন ঘরে ভাগ করে দেওয়া হয়। মাগুরা গ্রামের খেলা শেষে নোয়াহালট গ্রামের পক্ষ থেকে দাওয়াত দেওয়া হবে এই চারগ্রামকে। তখন একইভাবে নোয়াহালট গ্রামে খেলতে যাবেন তাঁরা।
আয়োজক কমিটির সদস্য ইসমাইল আলী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুর রাজ্জাক ও আবদুল গফুর জানান, প্রতি বছরই উৎসবের আমেজে এখানে কুস্তি খেলা হয়। স্থানীয়ভাবে এই খেলাকে দাওয়াতি কিংবা ভাইয়াপি কুস্তি খেলা বলে। আর যারা খেলায় অংশ নেন তাদের বলা হয় ‘মাল’। আর যারা খেলা পরিচালনা করেন তাদের বলা হয় ‘আমিন’। এসব খেলায় গ্রামে গ্রামে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ে। দুই এলাকার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ হয়, সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। এই যোগাযোগ থেকে আবার অনেকের মধ্যে বিয়েশাদি ও আত্মীয়তার সৃষ্টি হয়।
এরালিয়া গ্রামের বাসিন্দা তরুণ আইনজীবী মো. বুরহান উদ্দিন বলেন, এই কুস্তি খেলাকে ঘিরে এলাকার আশাপাশের উপজেলা থেকেও লোকজন আসেন। মাগুরা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে এই দাওয়াতি খেলা হয়ে আসছে। বিষয়টি খুবই ভালো লাগে আমাদের। আমরা একটি দিন আনন্দে-উৎসবে কাটায় সবাই।
কমিটির সদস্যরা জানান, এই খেলায় কোনো পুরস্কার থাকে না। যাদের দাওয়াত দিয়ে আনা হয় তাদের প্রীতি উপহার দেওয়া হয়। গতকালের খেলায় দুই এলাকার অন্তত ১০০জন অংশ নেন। তবে মূল খেলা হয় দুই এলাকার ১০জনের মধ্যে। এটাই নিয়ম।
গতকালের খেলা পরিচালনায় আমিনের দায়িত্ব পালন করেন মো. ছামির উদ্দিন, আতিকুর রহমান ও আমিন উদ্দিন। আয়োজক কমিটির সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মতিউর রহমান, শরিফ উদ্দিন, লুৎফুর রহমান, গোলাম মস্তফা, মোক্তার আলী, মদরিছ আলী প্রমুখ। কুস্তি খেলোয়াড়দের নতুন গামছা ও লুঙি দেন শিমুলবাগ গ্রামের লন্ডনপ্রবাসী শাহিনুর রহমান।