ভাঙা সড়কে চলা দায়

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
এমনিতেই কয়েক বছর ধরে সড়কের কোনো সংস্কার কাজ হয় না। ফলে সড়কটি অনেক আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে। কিন্তু চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যায় সেই সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় গর্ত। উঠে গেছে পিচ ঢালাই। এতে করে যানবাহন চলাচলের সময় যাত্রীদের অবস্থা হয় শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে জমে থাকে পানি। সেই পানি ছিটকে পড়ে সড়কের উভয়পাশে থাকা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের উপজেলা মোড় থেকে কান্দাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার ভাঙা সড়কের কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারও মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কয়েক বছর আগে এলজিইডির অধীনে ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের উপজেলা মোড় থেকে কান্দাপাড়া পর্যন্ত মেরামত করা হয়। কিন্তু মেরামতের কিছুদিন যেতে না যেতেই সড়কটি অবস্থা বেহাল হয়ে যায়। এ সড়ক দিয়ে সদর ইউনয়িনের কয়েকটি গ্রামের মানুষজনসহ জয়শ্রী, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ উপজেলা সদরে যোগাযোগ করেন। বিশেষ করে সুনামগঞ্জগামী লঞ্চ, ট্রলার বা স্পিডবোট যাত্রীরা এ সড়ক দিয়েই মহদীপুর ঘাটে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এবং এবারের কয়েক দফা বন্যায় সড়কে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা মোড় থেকে হলিদাকান্দা মোড়, মহদীপুর থেকে কান্দাপাড়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাহুটিয়াকান্দা নামক স্থানে সড়কের কিছু জায়গা পাশের খালে পতিত হয়েছে। কান্দাপাড়া বাজারের পশ্চিমপাশে ব্রীজ সংলগ্ন স্থানটিও বন্যায় ভাঙনের কবলে পড়েছে। ফলে সড়কটি দ্রুত মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিতেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য শিক্ষক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। এ সড়কে যানবাহনে চলা যেমন তেমন হেঁটে চলাও দায়।’
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা হিমু বলেন, ‘পূর্ব দিক থেকে উপজেলা সদরে প্রবেশের একমাত্র সড়ক এটি। কিন্তু ইতোমধ্যে সড়কটি ক্ষতিগস্ত হওয়ায় হাজারও মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাই।’
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘এ সড়কটি ফ্লাইওভার (হাওরে উড়াল সড়ক) প্রকল্পে ধরা আছে। ইতোমধ্যে সড়টি সার্ভে করা হয়েছে। শিঘ্রই সড়কটি টেন্ডারে যাবে।’