ভারত করের স্টল থেকে নন্দদুলাল

পুলক রাজ
উৎসব, পার্বণ, বিয়ে, জন্মদিনসহ নানা অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ শহরে নন্দ দুলালের মিষ্টির কদর রয়েছে। মিষ্টির সঙ্গে আনন্দের একটি যোগ আছে। যুগ যুগ ধরে উপাদেয় এই খাদ্যটি রসনা তৃপ্তির উপকরণ হয়ে আছে। ব্রিটিশ আমলে ভারত চন্দ্র করের হাত ধরে নন্দদুলাল মিষ্টির যাত্রা শুরু হয়। খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন ভারত চন্দ্র কর। দোকানের কোনো নাম লেখা ছিলো না। ভারতের স্টল নামে শহরে পরিচিত ছিলো। নন্দ লাল কর তাঁর বাবার কাছ থেকে শিখেছিলেন মিষ্টি বানানোর কৌশল। তখন বাবার সাথে তিনি শহরের পুরাতন কোর্টের স্টলে বসতেন। ভারতের স্টলে মিষ্টি খাওয়ার জন্য ভিড় জমাতো ব্রিটিশরাও।
১৯৪৭ সালে ভারত চন্দ্র কর যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন তাঁর ছেলে নন্দ লাল কর মিষ্টির দোকানের হাল ধরেন। দীর্ঘ ৪৯ বছর মিষ্টির ব্যবসা করেন নন্দ লাল কর। পুরতান কোর্টের স্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায় ভারতের স্টল।
অনেক চেষ্টা করেও নতুন কোর্টে ক্যান্টিন রাখতে পারেননি নন্দ লাল কর। ছয় বছর মিষ্টির ব্যবসা বন্ধ থাকার পর ২০০১ সালে আবারও চালু হয় মিষ্টির ব্যবসা। পৌর শহরের ষোলঘর পৌর মিনি মার্কেট, কাজির পয়েন্টে ভারত চন্দ্র করের নাতি ও নন্দলাল করের পুত্র নিখিল কর আবার মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন। নিখিল কর দোকানের নাম দিয়েছেন তাঁর বাবার নামে ‘নন্দদুলাল মিষ্টি মুখ’।
বর্তমানে নন্দদুলালের মিষ্টি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে শহরে। সুনামের সাথে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির ব্যবসা পরিচালনা করছেন নিখিল কর। ব্যবসায়িক সততা, নিষ্ঠা, গুণগত মানের কারণে অল্প সময়ে নন্দদুলাল মিষ্টির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে পুরো জেলায়।
নিখিল কর জানান, প্রথমে তিনিও বাবার মতো নিজে মিষ্টি তৈরি করতেন। চাহিদা বাড়ায় তিনি ৩ জন কারিগরের সহযোগিতা নিয়ে মিষ্টি তৈরি করছেন। তার একমাত্র পুত্র দিপ্ত করও পড়াশুনার পাশাপাশি মিষ্টির দোকানে বসে। নিখিল কর’র ছোট ভাই আশু করও সহযোগিতা করেন মিাষ্টর ব্যবসায়।
তিনি আরো বলেন, নন্দদুলাল মিষ্টি ঘরে তিন ধরনের মিষ্টি তৈরী করা হয়। প্রতিদিন দুই থেকে তিন মন মিষ্টি তৈরী করা হয়। দুইশত এবং তিনশত টাকা করে প্রতি কেজি বিক্রি করা হয়। প্রতি পিস দশ টাকা করে বিক্রি করেন। প্রতিদিনের মিষ্টি প্রতিদিনই বিক্রি হয়ে যায়। তাই মিষ্টি নষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে না। গরুর খাঁটি দুধ থেকে ছানা কেটে তৈরি করা হয় নন্দ দুলালের মিষ্টি। গরুর খাঁটি দুধ জাল দিয়ে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় ছানা। বিশুদ্ধ ছানার সাথে পরিমাণ মতো চিনিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের সমন্বয়ে মিষ্টির বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়।