ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল, ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার
ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত শুক্রবার জেলার চারটি উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়। এসব উপজেলার নি¤œাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতির। আকস্মিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে মৎস্য খামারের মাছ। এতে সুনামগঞ্জ জেলার ১ কোটি ৬১ লক্ষ ১৬ হাজার ৫শত টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব মৎস্যচাষী।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী জেলার সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজার এই তিন উপজেলায় ৫১.০১ হেক্টর আয়তনের ৩৩৮টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তিন উপজেলায় ১ কোটি ১২ লক্ষ ৫ হাজার টাকার ৫৬.০২৫ মে. টন মাছ এবং ৩১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৫শত টাকার ৪২ লক্ষ ৯৫ হাজার মাছের পোনা ভেসে গেছে। এছাড়াও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার।
সবচেয়ে বেশি মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। মৎস্য সম্পদের মোট ক্ষতির পরিমাণ ৯৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৫শত টাকা। এই উপজেলায় ৩০.৭৫ হেক্টর আয়তনের ১৯০টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার ৩৪.৬৫ মে. টন মাছ এবং ১৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫ শত টাকার ২১ লক্ষ ৯৫ হাজার টি মাছের পোনা ভেসে যায়। অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ৯ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৬০ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। ১৫.২১ হেক্টর আয়তনের ১১৭ টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৪০ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার ২০.৩৭৫ মে. মাছ এবং ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ১৪ লক্ষ টি মাছের পোনা ভেসে যায়। এছাড়াও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ৭ লক্ষ টাকার।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে ৭ লক্ষ টাকার। ৫.০৫ হেক্টর আয়তনের ৩১টি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ লক্ষ টাকার ১ মে.টন মাছ এবং ৪ লক্ষ টাকার ৭ লক্ষ টি মাছের পোনা । অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ১ লক্ষ টাকার।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল হক বলেন, ‘আকষ্মিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় মৎস্য চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যেই মৎস্য অধিদপ্তরে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাঠিয়েছি। আশা করছি ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।