ভাল কাজ কলাচাঁনপুরের বাঁধে খারাপ মাসুকের খাড়ায়

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা সদরের পাশ্ববর্তী উপজেলা বিশ্বম্ভরপুরের সবচেয়ে বড় হাওর করচা। এই উপজেলায় ৪১ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ৫ টি বৃহৎ হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ করেছে। উপজেলায় সবচেয়ে ভাল বাঁধের কাজ হয়েছে হালির হাওর উপ-প্রকল্পের কলাচাঁনপুরের বাঁধে। আর সবচেয়ে খারাপ কাজ হয়েছে শনির হাওরের মাসুকের খাড়া বাঁধে।
জামালগঞ্জ-তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে বৃহৎ হালির হাওর। এই হাওরের একাংশে বাঁধের কাজ করছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কয়েকটি পিআইসি। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই উপজেলার হাওর রক্ষা বাঁধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভাল কাজ হয়েছে হালির হাওর উপ-প্রকল্পের কলাচাঁনপুর থেকে কলাগাঙ পর্যন্ত বাঁধের কাজ। ২১ নম্বর পিআইসি’র এই বাঁধের কাজে বরাদ্দ ছিল ২৪ লাখ ৬৫ হাজার ১৪১ টাকা। আবুয়া নদী ও নাইন্দা নদীর পাড়ের এই বাঁধে এখন ঘাস লাগাচ্ছেন পিআইসির লোকজন।
কলাচাঁনপুরের কৃষক ইশান বর্মণ বলেন,‘গত বছর বাঁধ না হওয়ায় হাওরে পানি ঢুকে ফসল ডুবেছে। এর আগের বছর শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হয়েছে। এবার ফসল না ওঠলে, বাঁচার কোন উপায় থাকবে না। বাঁধের কাজের শুরুতেই আমরা বার বার বাঁধে গিয়েছি। পিআইসির দায়িত্বপ্রাপ্তদের তাগাদা দিয়ে কাজ আদায় করেছি। বাঁধের কমপেকশন, স্লোফ সব কিছুই আমরা কৃষকরা গিয়ে দেখেছি। এখন বাঁধে বন লাগানো হচ্ছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার আমাদের বাঁধের কাজ ভাল হয়েছে।’
গ্রামের কৃষাণি কমলা বর্মণ বলেন,‘হালির হাওর উপ-প্রকল্পের পাশাপাশি ৪ টি কাজই আমরা ভালভাবে আদায় করেছি। এই হাওরের ৪১, ২৪ এবং ২৩ নম্বর পিআইসির কুপাগাঙয়ের বাঁধ অন্যান্য বছরের চেয়ে ভাল হয়েছে। কুপাগাঙয়ের বাঁধকে নিরাপদ রাখতে এখন বাঁশ কোপা হচ্ছে। বস্তায় বালি মাটি ঢুকিয়ে বাঁশের আড়ের ভেতর দেওয়া হবে। এই বাঁধ এবার ভাঙবে না।’
বাঁধের পিআইসির সদস্য সচিব রঞ্জিত বর্মন বলেন,‘আমরা চেষ্টা করেছি, এলাকার কৃষকদেরও তাগাদা ছিল, এখন বাঁধে বন লাগানো হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এসেছিলেন। তাঁরা বাঁধ দেখে বলেছেন, আমরা মোটামোটি ভাল কাজ করেছি। বাঁধের পাশে বন ভাল করে লাগানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘বাঁধের কাজ ভালভাবে করার জন্য যা যা প্রয়োজন, হালির হাওর উপ-প্রকল্পের কাজে সেগুলো করার চেষ্টা হয়েছে। এই বাঁধের কাজ অন্যান্য পিআইসিগণ দেখে আসতে পারেন।’
বিশ্বম্ভরপুরে বৃহৎ শনির হাওরের একাংশ পড়েছে। শনির হাওরের একটি অংশের বাঁধ করছেন বিশ্বম্ভরপুরের কয়েকটি পিআইসি। শনির হাওরের এই উপজেলার অংশে ১৯ নম্বর পিআইসির সভাপতি লুৎফুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুন নুর। এই প্রকল্পে বরাদ্দ আট লাখ ৪৬ হাজার ১১ টাকা। এই পিআইসির মাসুকের খাড়া, সামছুর খাড়া ও জালালের খাড়ায় কাজ করার কথা। এই ভাঙনগুলোতে কাজ ৫০-৬০ ভাগ হয়েছে। কমপেকশন ও স্লোফ হয় নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘১৯ নম্বর পিআইসির দায়িত্বশীলদের শোকজ করা হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের ৩৬ টি হাওরে ১১৫ টি ভাঙন ও ১৪ শ’ কিলোমিটার হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য এবার বরাদ্দ ১৭৭ কোটি টাকা। ৯৬৪ টি পিআইসি এসব কাজ করছে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাঁধের কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবার কথা ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি’র পর ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাঁধের কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।