ভিজিএফ’র তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ

জগন্নাথপুর অফিস
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল আযহা উপলক্ষে হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের পছন্দের মানুষ দিয়ে তালিকা প্রণয়নের কাজ করার অভিয়োগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ইকবাল হোসেন ও সংরক্ষিত ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য মোছা. জুবিলী বেগম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে দুই সদস্য উল্লেখ করেন, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত প্রতিটি ওয়ার্ডে হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ করার তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যরা করার নিয়ম থাকলেও পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম ৯নং ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদেরকে সম্পৃক্ত না করে নিজের পছন্দের মানুষ দিয়ে তালিকা প্রণয়নের কাজ করছেন। এতে আমাদের ওয়ার্ডের দরিদ্র জনসাধারণ বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমাদেরকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে।
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, কলকলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিমকে গত ৭ মার্চ ভিজিএফ এর চালসহ অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। তদন্ত কমিটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য রয়েছে। তিনি বলেন, এই আক্রোশে চেয়ারম্যান আমাদের ওয়ার্ডের ভিজিএফ চালের তালিকা নিজের পছন্দের মানুষ দিয়ে তৈরী করে সামাজিকভাবে আমাদেরকে হেয় করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য মোছা. জুবলি বেগম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমার ওয়ার্ডের সকল কার্যক্রমে আমাকে সম্পৃক্ত না রেখে নিজের পছন্দের মানুষ দিয়ে কাজ করান। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে তিনি আমার সাথে অমানবিক আচরণ করেন। এঅবস্থায় দায়িত্ব পালন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম বলেন, ‘পরিষদের সদস্য হয়ে দুই প্রতিনিধি পরিষদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করায় তাদের কে বাদ দিয়ে ভিজিএফ চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করতে তালিকা করা হচ্ছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম বলেন, ‘কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’