ভিজিএফ ও টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিন হাজার মানুষের মধ্যে বিশেষ ভিজিএফের চাল ও টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। অভিযোগ আছে, ওই মাসে ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের করে দেওয়া কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে আছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। সদস্য হিসেবে আছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি একজন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা। কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে গত বছর হাওরে ব্যাপক ফসলহানির পর এপ্রিল মাস থেকে সরকার জেলায় ১ লাখ ৬৮হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০টাকা করে সহায়তা দেওয়া শুরু করেন। এ বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পুরো এক বছর সরকার এই সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তা সুনামগঞ্জ পৌরসভায় পেয়েছে তিন হাজার পরিবার। এ জন্য পৌরসভাকে প্রতিমাসে ৯০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের চাল ও টাকা বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ তুলেন পৌরসভার সাতজন কাউন্সিলর। তাঁরা বিষয়টির প্রশাসনিক তদন্ত চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেন। এর আগে গত মাসে পৌর শহরের হাসননগর এলাকার আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি একইভাবে ফেব্রুয়ারি মাসের চাল ও টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেন। কাউন্সিলরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার এই কমিটি গঠন করে দেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখত জগলুল গত ১ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল। তিনি গত ৩০ এপ্রিল নতুন নির্বাচিত পৌর মেয়র নাদের বখতের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
পৌর কাউন্সিলদের অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারি মাসের চাল ও টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই চাল ও টাকা আত্মসাতের সঙ্গে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল জড়িত।
তবে কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, যেসব কাউন্সিলর অভিযোগ করেছেন তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটা করছেন। চাল ও টাকা যথাযতভাবে বিতরণ করা হয়েছে। চাল ও টাকা বিতরণের মাস্টাররোলে এই কাউন্সিলরদের কয়েকজনের স্বাক্ষর আছে। এখন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তারা আমার সম্মানহানির জন্য এটা করছেন। চাল ও টাকা বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি।
পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেছেন,‘যে মাসের চাল ও টাকা বিতরণ নিয়ে কথা উঠেছে, আমি তখন দায়িত্বে ছিলাম না। তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও আমি জানি না। কাউন্সিলর সবাই আমার পরিষদের, তাদের কারো বিষয়ে কোনো তদন্ত হলে স্বচ্ছতার জন্যই সে কমিটিতে আমি থাকব না। তবে যেহেতু কথা উঠছে তাই কোনো ভুল বোঝাবুঝি যাতে না থাকে সেজন্য বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক, এটা আমিও চাই।’