ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা

স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ১৫ জুন থেকে পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে ও জাতীয় পুষ্টিসেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে পৌর শহরের ইপিআই ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, জেলার ২ হাজার ২১৭ টিকাদান কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ১৫-১৯ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন চলবে। এবার সুনামগঞ্জ জেলায় (৬-১১) মাস বয়সী ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন শিশু এবং (১২-৫৯) মাস বয়সী ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২০৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও এই ক্যাম্পেইনে (৬-১১) মাস বয়সী ৪৪৮ জন এবং (১২-৫৯) মাস বয়সী ৩ হাজার ৯৩৬ জন প্রবিবন্ধী শিশুকেও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এদিকে ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া শিশুদের অনুসন্ধানে জেলার ধর্মপাশা, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪দিনও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ আল বের”নী খান, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ওমর ফার”ক, সুনামগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি পংকজ কান্তি দে, প্রথম আলো নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাড. খলিল রহমান, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বিন্দু তালুকদার, চ্যানেল ২৪ জেলা প্রতিনিধি এ আর জুয়েল প্রমুখ।
জানা যায়, ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে তাই নয়, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায় এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। দেশে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধে সরকার বছরে ২ বার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন করে থাকে। এই ক্যাম্পেইন চলাকালে ৬-১১ মাস বয়সি শিশুকে একটি নীল রংয়ের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সি শিশুকে একটি লাল রংয়ের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এর পাশাপাশি জন্মের পরপর নবজাতককে শালদুধ খাওয়ানো, ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, শিশুর ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমতো ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বার্তাও প্রচার করা হয়। একটি শিশুও যাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ না যায় সেজন্য ক্যাম্পেইন শেষে আরো ৪ দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া শিশুদের খোঁজ নেয়া হয়।