ভিড় বাড়ছে গরিবের ঈদ বাজারেও

আসাদ মনি
জমে উঠছে ফুটপাতের ঈদ বাজার। প্রান্তিক কৃষক, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ছাড়াও কম আয়ের শ্রমজীবীদের একমাত্র ভরসাস্থল ফুটপাতের দোকানগুলো। ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ততই জমজমাট হচ্ছে ফুটপাতের দোকান। বিক্রেতারা বলছেন, ৪-৫ দিন ধরে ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়েছে। ফুটপাতে দোকানীরা জানালেন, লিলেন কাপড়ের পোশাকই এবার ক্রেতাদের চাহিদা বেশি।
ছেলে বুড়ো, মেয়ে-মহিলা সকলের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে। ফুটপাতের কাপড় দামে সস্তা হওয়ায় গরিব মানুষেরা ভিড় জমাচ্ছেন ওখানে।
রাস্তার পাশে বসা ফুটপাতে কাপড়ের পসরা সাজিয়েছেন অনেকে।
শুক্রবার সরজমিনে দেখা যায়, বড় ও ছোটদের শার্ট, টি-শার্টসহ নানা ধরনের প্যান্ট আছে ফুটপাত বাজারে। পাঞ্জাবি, রেডিমেড পোশাক, জুতোর
দোকান, প্রসাধনী, প্যান্ট, বেল্ট, লুঙ্গি, টুপি, ও গেঞ্জিসহ সব পোশাকই রয়েছে ফুটপাতে। দাম অপেক্ষাকৃত একটু কম হওয়ায় এখানে নি¤œ আয়ের লোকদের ভিড় বেশি।
শুক্রবার তুলনামুলক ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ছিলো।
শহরের ডিএস রোডের (শহীদ মিনারের সামনের দোকান) ব্যবসায়ী দোয়েল মিয়া বলেন, ‘রিক্সা চালকসহ গরিব মানুষই আমাদের ক্রেতা। যাদের সামর্থ কম তারাই এখানে আসে। কৃষকরা ধানের দাম পাচ্ছে না, এজন্য ক্রেতা কিছুটা কম, না হয় আরো বেশি বিক্রি হতো।
পুরাতন কোর্টের সামনে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। ছোট শিশুদের সাথে নিয়ে অনেকেই আসছেন কেনাকাটা করতে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছেলে-মেয়েদের কাপড় কেনার জন্য যে টাকা তারা এনেছেন, ফুটপাত থেকে চাহিদামত কিনতে পারছেন, বিপণি বিতানের বড় দোকানে এভাবে কেনা সম্ভব নয়।
পুরাতন কোর্টের সামনের ফুটপাতের ব্যবসায়ী মো জহুর আলী বলেন, বেচাকেনা এখন মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। সামনের কয়েকদিনে আরও ভাল হবে। লিলেন কাপড়ের জামা, বাচ্চাদের পেন্ট এবং শার্ট বেশি বিক্রি হচ্ছে।
একই এলাকায় বসা ব্যবসায়ী রনঞ্জিত বলেন, বাচ্চাদের কাপড়ের চাহিদা বেশি। বেশিরভাগ ক্রেতা নি¤œ আয়ের। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কাপড় সরবরাহ করছি।
ব্যবসায়ী বিধান চন্দ্র দাস বলেন, নি¤œ আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে আমরা কম দামের কাপড় বিক্রি করছি। মার্কেটে যে কাপড়ের দাম হাজার বারোশ’ টাকা সেগুলো আমরা তিন-চারশ’ টাকায় বিক্রি করছি।
পুরাতন কোর্টের সামনে ফুটপাতের দোকানে ছেলের জন্য জামা কিনতে আসা কৃষক ইকবাল হোসেন (৩৫) বলেন, ‘ফুটপাতে সুযোগ-সুবিধা একটু বেশি। মার্কেট থেকে এখানে কম দামে বাচ্চাদের জামা কিনতে পাওয়া যায়। তাই আমি আমার বাচ্চার জন্য পেন্ট, শার্ট কিনতে এসেছি।’
ষোলোঘরের ক্রেতা হাকিম আলী জানান, ফুটপাতে কম দামে জামাকাপড় কেনা যায়। যদিও দোকানিরা একটু বেশি দামই বলে, তবে দরদাম করে মার্কেট থেকে কমদামে কেনা যায়।