ভুল চিকিৎসায় প্রাণ গেল দুই পশুর

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ভ্যাটেনারী ফিল্ড সহকারি মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় স্থানীয় কৃষকদের গবাদি পশু মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে হতদরিদ্র কৃষকের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রাণী সম্পদ অফিসে কৃষকেরা গৃহপালিত গবাদি পশুর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করান। রবিবার দুপুর ১২টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জয়কলস গ্রামের কৃষক উস্তার আলী দুইটি গরু (একটি ষাঁড় ও অপরটি গাভী গরু) নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। এসময় কর্তব্যরত ভ্যাটেনারী ফিন্ড সহকারি মোশারফ হোসেন কৃষক উস্তার আলী কে তার পশুর ক্ষুধা মন্দা ও স্বাস্থ্যহানি হওয়ার জন্য স্থানীয় বাজার থেকে ঔষধ আনার ব্যবস্থাপত্র দেন। তাৎক্ষণিক কৃষক উস্তার আলী
স্থানীয় শান্তিগঞ্জ বাজার থেকে ঔষধ নিয়ে এসে ভ্যাটেনারী ফিল্ড সহকারি মোশারফ হোসেনকে দিলে তিনি ঐ গবাদি পশুকে ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছু সময় পর ঐ দুইটি গরু মারা যায়।
জানা যায়, উপজেলা ভ্যাটেনারী ফিল্ড সহকারি মোশারফ হোসেন যোগদানের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন কৃষকদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ রোজগারের নেশায় নি¤œ মানের ঔষধ দিয়ে অনেক গবাদি পশুর ক্ষতি করছেন। কিছুদিন পূর্বে আস্তমা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদের একটি গাভী অপচিকিৎসায় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়। এর পর আব্দুল মজিদ দ্রুত অন্য একজন পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ঐ চিকিৎসক বলেন, এই গাভীকে ভুল চিকিৎসা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন দেওয়ায়ই গাভীর এই অবস্থা হয়েছে। পরে গাভীটিকে সুস্থ্য করতে তার প্রায় ৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল।
একই উপজেলার জয়কলস গ্রামের মৃত নিতু ঠাকুরের ছেলে নেপাল ঠাকুরের একটি ষাড় গরু উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে চিকিৎসা দিতে আনলে ভ্যাটেনারী ফিল্ড সহকারি মোশারফ হোসেনের অপচিকিৎসায় মারা যায়।
আস্তমা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, ভ্যাটেনারী ফিল্ড সহকারি মোশারফ হোসেনের অপচিকিৎসায় আমার গাভীটি মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
জয়কলস গ্রামের মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে উস্তার আলী জানান, আমি একজন দরিদ্র কৃষক। দীর্ঘদিন থেকে আমি গরুগুলি লালন পালন করছি। কিন্তু ডাক্তারের ভুলে আমার গরুগুলি মারা গেছে। আমার গরুর কোন রোগ ছিল না। শুধুমাত্র ঘাস কম খায় ও স্বাস্থ্য কম থাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছি। এখনতো আমার সবই গেল। আমি এই ডাক্তারের বিচার চাই।
উপজেলা ভ্যাটেনারী ফিল্ড সহকারি মোশারফ হোসেন বলেন, গবাদিপশু দুইটি গলাফুলা রোগের জন্য চিকিৎসা নিতে এসেছিল। চিকিৎসা দিয়েছি। তবে সাধারণ গলাফুলা রোগে ২/৩ দিনের মধ্যে গবাদি পশু মারা যায়। আমি গলা ফুলা রোগের চিকিৎসা দিয়েছি। তবে বিকালে শুনেছি গবাদি পশু দুইটি মারা গেছে।
এই প্রতিবেদকের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমি কোন ভুল চিকিৎসা দেইনি। তবে আস্তমা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদের গাভীকে ভুল করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন দিয়েছিলাম। ভুল তো মানুষেরই হয়।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সুকুমার দাস বলেন, কিছু গরু চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠে। আবার অনেক গরু চিকিৎসার পরও মারা যায়। এমনও আছে বেশী মাত্রায় ঔষধ প্রদানের ফলে গরু মারা যায়। তবে এটা না দেখে বলা যাবে না।