ভূমি অধিগ্রহণে আটকে আছে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের সাথে তিনটি ইউনিয়নের যাতায়াতের প্রধান সড়ক নলজুর নদীর ওপর ঘোষগাঁও নামক স্থানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু নির্মাণের সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর এক পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক না হওযায় সেতুর ওপর দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বিকল্প অ্যাপ্রোচ সড কে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি উপজেলাবাসীকে দুর্ভোগে ফেলে দিয়েছে।
উপজেলাবাসী জানান, ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নলজুর নদীর ওপর ১৪৯ মিটার দৈর্ঘ্যর ঘোষগাঁও সেতুর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। সেতু উদ্বোধনের পর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে পৌর এলাকার হবিবপুর গ্রামের এক ব্যক্তি সেতুর অ্যাপ্রোচের জায়গার মালিকনা দাবী করে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে বাধা দিয়ে ওই জায়গায় সীমানা দেয়াল নির্মাণ করেন।
পরে ওই অংশের ভুমি অধিগ্রহণের আবেদন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তুু সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও ভূমি অধিগ্রহণে কোন কিনারা হয়নি।
সেতু এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী জানান, উপজেলা সদরের সাথে রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি ইউনিয়নের কমপক্ষে ২০টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতে এই সেতুটি ব্যবহৃত হয়। এছাড াও ওই সেতুদিয়ে কম সময়ে উপজেলা সদর থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেগমপুর যাতায়াত করা যায়। সেতুটির বিকল্প অ্যাপোচে অটোরিকশা, সিএনজি চলাচল করতে পারলেও বড় যানবাহন বাস, ট্রাক ও মাইক্রো চলাচল করতে পারে না। বর্তমানে সেতুর পূর্বাংশের অ্যাপ্রোচ ধসে গেছে আর পশ্চিমাংশের অ্যাপ্রোচে সড়ক না থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদেরকে।
ঘোষগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নুরুল ইসলাম বলেন, দুঃখের বিষয আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রায় ৫ বছর ধরে অ্যাপ্রোচ সড ক না হওয়ায় সাড়ে এগার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলাকাবাসীর দীর্ঘ প্রতিক্ষিত সেতুটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদের অবহেলায সরকারের উন্নয ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
একই এলাকার বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, ভুমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কথা বলতে বলতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এখন শুনেছি বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছেন।
এলজিইডির জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার জানান, আমি উপজেলায় নতুন এসেছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলেই অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়াও অ্যাপ্রোচ সড়কের ধসে যাওয়া অংশ সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।