ভূমি ধস আমাকে একেবারে নিঃস্ব করে দিলো

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি
সংসারে সুখের হিসাব করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে যাপিত করেছেন জীবনের বেশ কয়েকটি বছর। দুর্ভোগ্য কখনোই পিছু ছাড়েনি। স্বল্প আয়ের ওমানী জীবনে সব সময়ই লেগেছিলো নিদারুণ টানাপোড়েন। কষ্টকে সাথী করে গতমাসের প্রথম দিকে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা, মরহুম রবিউল হক ওরফে রবাই মেইকারের ৩য় সন্তান মো. আলা উদ্দিন। দেশে এসে উপার্জনের সর্বস্ব অর্থ দিয়ে খুলেছিলেন বাবার শিখিয়ে যাওয়া পেশা, মোবাইল মেকানিক ও টেলিভিশন সারিয়ে দেওয়ার দোকান। আশি থেকে একলক্ষ টাকা খরচা করে দোকানে তুলেছিলেন ইলেক্ট্রনিক ও মোবাইল ডিভাইস, দু’টি মোবাইল ঠিক করার মেশিন। বানিয়েছিলেন আসবাবপত্র। দোকানে ছিলো কাস্টমারের বেশ ক’টা বাটম ও স্মার্ট ফোন। বৃহস্পতিবার রাতে ভারী বর্ষণে উপজেলার পাগলা বাজারের বীরগাঁও রোডের (সাবেক গ্রামীণ ব্যাংকের বিপরীতে) তার দোকাটি ধসে যায়। একেবারেই ধ্বংস হয়ে যায় দোকানটি। কোনো কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। শুধু তার ঘরই নয়, এসময় আরো ৫টি দোকান ধসে পরে। পুরোপুরিভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় ৪ টি আর আংশিক ক্ষতি হয় আরও ২টি দোকানের। সব মিলিয়ে ৬ ব্যবসায়ীর প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
হেয়ার স্টাইল নামের একটি সেলুনের দোকান ছিলো দিরাই উপজেলার শ্যামারচর এলাকার মন্টু চন্দের ছেলে গনেশ চন্দের। তার দোকানের একটি কাঁচিও তিনি উদ্ধার করতে পারেন নি। সকাল থেকে মনের কষ্টে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন এ দুই ব্যবসায়ী।
এছাড়াও কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলামের টিভি মেকানিকের দোকান, অরুন সূত্রধরের দোকান, প্রদীপ নাথের কুটির শিল্পের দোকানের গুদাম ও টিপু দেবনাথের দোকানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
গনেশ চন্দ বলেন, অনেক আশা নিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এসে নিজের সব পূঁজি খাটিয়ে ব্যবসাটা খুলেছিলাম। ভালই চলছিলাম। বিধি বাম। কী আর করবো। নিজের সবকিছু শেষ হয়ে গেলো। এখন কীভাবে চলবো জানি না।