ভূমি সেবাকে দ্রুত ডিজিটাল করা হোক

সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক দলিলে স্বাক্ষর করতে মোটা অংকের উকোচ নেয়ার প্রতিবাদে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দলিল লিখকরা কর্মবিরতি পালন করছেন বলে গতকাল স্থানীয় পত্রিকাসমূহে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি একইসাথে চমৎকৃত হওয়ার মতো এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি অতিপরিচিত চর্চার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ। প্রতিবাদটি করছেন কারা সেটিও দৃষ্টিআকর্ষণকারী বিষয় বটে। প্রতিবাদ করছেন দলিল লিখকরা যারা ওই অফিসের সনাতনী ঐতিহ্যের একটি অংশ হিসাবেই পরিচিত। বুঝাই যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রারের কর্মকা- দলিল লিখকদের ভীষণভাবে সংক্ষুব্ধ করে তোলেছে যার পরিণতিতে তাঁরা প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচী পালনের মতো অবস্থায় যেতে বাধ্য হয়েছেন। দলিল লিখকদের দাবি মতে সাব-রেজিস্ট্রারের দুর্নীতি বিষয়ে বেপরোয়াত্ব অবশ্যই একটি সংগঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচীর আওতায় আসা এই অফিসের সেবাগ্রহীতাসহ অপরাপর অংশের জন্য স্বস্তিদায়ক। আমরা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লিখকদের দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচীর জন্য অভিনন্দন জানাই।
প্রতিটি সরকারি কার্যালয়ে কী কী সেবা দান করা হয় এবং সেবাগ্রহীতা কোন উপায়ে ওই সেবা পেতে পারেন তা সহজ ভাষায় লিখে দর্শনীয় স্থানে টানিয়ে রাখার সরকারি নির্দেশনা জারী আছে। ওই প্রদর্শনীটি প্রশাসনিক পরিভাষায় চার্টার অব সিটিজেন বা সিটিজেন চার্টার নামে পরিচিত। বস্তুত একটি দলিল রেজিস্ট্রি করতে সরকারি ফিসের পরিমাণ কত এবং কোন প্রক্রিয়ায় কতদিনে এটি সম্পন্ন হবে তা ওই চার্টার অব সিটিজেনে উল্লেখ থাকার কথা। স্বচ্ছভাবে ওই প্রক্রিয়ার সবকিছু উল্লেখ থাকলে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে আসা যেকোন সেবাগ্রহীতার বাড়তি বিড়ম্বনা বা ক্ষতির সন্মুখীন হওয়ার কথা নয়। তাহলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাবরেজিস্ট্রার কীভাবে দলিল স্বাক্ষরের জন্য মোটা অংকের উৎকোচ চাইতে পারেন? এর একটি অর্থই আমাদের মাথায় আসে সেটি হলো ওখানে সিটিজেন চার্টার নামক সরকার নির্দেশিত ওই সেবাতালিকাটি হয়তো টানানো নেই। থাকলেও ওখানে স্পষ্টভাবে সবকিছুর বর্ণনা নেই। আমাদের প্রশ্ন হলো সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যেসব পক্ষগুলো কার্যকর রয়েছে তারা কি কখনও এই সিটিজেন চার্টার টানানোর দাবিটি সামনে নিয়ে এসেছেন? কথাগুলো এ কারণে বলা যে, সারা দেশেই ভূমি রেজিস্ট্রির খরচ নিয়ে এক ধরনের ধূ¤্রজাল রয়েছে। মূলত ভূমিক্রেতা আদৌ জানেনই না তিনি যে জমি রেজিস্ট্রি করবেন তার সরকার নির্ধারিত ফিসের পরিমাণ কত। অত্যন্ত কৌশলে এই বিষয়টি গোপন রাখা হয়। এর ফাঁকে রেজিস্ট্রি খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করা হয় যার বড় অংশ বিভিন্ন পক্ষের পকেটে ঢুকে যায় বলে সাধারণ্যে ধারণা রয়েছে। এমন বাস্তবতা থেকে আমরা মুক্তি চাই। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দলিল লিখকরা এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ভূমিকা রাখলে আমরা খুশি হবো। আর তারা যদি এই প্রতিবাদ কর্মসূচীটি ¯্রফে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন দ্বন্দ্বের কারণে করে থাকেন তাহলে এ থেকে সেবাগ্রহীতাদের খুব বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ভূমি সংক্রান্ত সরকারি সকল কর্মকা- ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তরের বিষয়টি অগ্রগণ্য হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে যে শম্বুক গতি সেটি আমাদের আশ্চর্যান্বিত করে। এই সেবাগুলো ডিজিটাল হলে এসব অফিসে যে বিশাল পরিমাণ দুর্নীতি হয়ে থাকে তার অনেকখানিই রোধ করা সম্ভব হত। কিন্তু অনেকগুলো স্বার্থাণে¦ষী চক্রের বাধার কারণে ভূমিসংক্রান্ত সরকারি কার্যাদি ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করা যাচ্ছে না। সরকারকে অবশ্যই এই জায়গায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।