ভেজা ধান বস্তায় ভরে পানিতে সংরক্ষণ

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে যতটা আনন্দ আর উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে জমি থেকে ধান তুলছিলেন কৃষকরা সে আনন্দ আর শেষ পর্যন্ত অটুট থাকেনি। টানা বৃষ্টিপাত আর বৈরি আবহাওয়ার কারণে স্তুপ করা ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে এ উপজেলার কৃষকদের হাজার হাজার মণ ধান। এ যেনো এক দুর্যোগের পর আরেক দুর্যোগ। আর এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে, ধানে যেনো চারা না গজায় এ জন্য সনাতন পদ্ধতিতে বস্তায় ভরে শত শত মণ ধান পানিতে সংরক্ষণ করছেন এ উপজেলার অনেক কৃষক। এই পদ্ধতিতে ধান কিছুদিন রক্ষা রাখা যায় এবং এই ক’দিন ধানে চারা গজায় না বলে জানিয়েছেন আলকাছ আলী নামের একজন প্রবীণ কৃষক। তিনি জানান, এই পদ্ধতিতে ধানে চারা না গজালেও ধান থেকে যে চাল হয় তার স্বাদ কমে যায়।
কৃষকরা জানান, শুকনায় থাকলে এই ধানে বাতাস লাগবে। ভিজা ধানে বাতাস লাগলেই চারা গজাবে। পানির নিচে বাতাস লাগবে না। তবে, ভাঙ্গানোর পর চালের স্বাদ কিছুটা কমে যাবে। উপজেলার কামরূপদলং, পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব পাগলাসহ বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকের কাটা ধানে ইতোমধ্যে চারা গজিয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই রকম সংকটময় মুহূর্তে কৃষকরা গ্রামীণ প্রচলিত প্রথা ব্যবহার করতে পারেন। নিজেদের ধান রক্ষা বরতে কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। তবে কোনো অবস্থাতেই এই ধানকে মাটিতে লাগতে দেওয়া যাবে না। যদি পানির নিচে বস্তা বন্দি ধান মাটিতে লেগে যায় তাহলে ধান পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ পদ্ধতি থেকে ভালো পদ্ধতি হলো যদি ধানকে স্তুপ করে না রেখে একটি শুকনো যায়গায় নিচে পলিথিন দিয়ে উপরে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে মেলে রাখা যেতো। এতে ধানের তাপমাত্রার পরিমাণের ভারসাম্য ঠিক থাকতো। জায়গা না পেলে কৃষকরা সনাতন পদ্ধতিতেও ধান ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ধানে চারা বা হিজা গজানোর জন্য যে পরিমাণ বাতাস, আলো, অক্সিজেন, তাপমাত্রা দরকার তা হবে না। চারা গজানোর জন্য যে পরিমাণ পানি থাকার কথা তার চেয়ে বেশি পরিমাণে পানি হওয়ায় পুকুরে রাখা বস্তার ধানে চারা গজাতে পারে না। বৃষ্টিপাতের কারণে ধান নষ্ট হওয়ার চেয়ে এই প্রচলিত বা সনাতন পদ্ধতিতে ধান রক্ষা করা এখন খুবই জরুরি।
উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সলফ গ্রামের সাধারণ কৃষক আফছর খাঁন বলেন, ‘আমি নিজে ১শ’ বস্তা ধান পানিতে ফেলেছি। আমার মুরব্বিরা আগে এই পদ্ধতিতে ধান সংরক্ষণ করতেন। আমিও করেছি। এখন আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি জানান, ‘আমাদের পাশের গ্রামের ধরমপুর গ্রামের হাজি কালা মিয়াও বেশ কিছু ধানের বস্তা পানিতে ফেলেছেন।’
সদ্য দক্ষিণ সুনামগঞ্জ কৃষি অফিস থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত ওসমান মজুমদার। তিনি বলেন, কৃষকদের প্রতি এখন আহ্বান করবো- হাওরে পানি ঢুকছে। আপনারা আগে উঁচু জায়গায় চলে আসেন। পানিতে যেসব কৃষক ধান সংরক্ষণ করছেন তাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে ধানের বস্তা যেনো মাটি স্পর্শ না করে। তাহলে ধান পঁচে যাবে। টালের মধ্যে যদি ধান ছড়িয়ে রাখা যায় তাহলে উপকার বেশি হবে। গ্রামীণ বা সনাতনি পদ্ধতিও বেশ উপকার দেবে। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলে কৃষকরা ধান রক্ষায় এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সড়কে সেতুর অ্যাপ্রাচে ধস