ভোগান্তির অবসান চান বাসিন্দারা

স্টাফ রিপোর্টার
পৌর শহরের অন্যান্য ওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপুর্ণ এলাকাসমূহ নিয়ে গঠিত ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই
রয়েছেন জলাবদ্ধতা ভোগান্তিতে। সামান্য বৃষ্টিপাতেই হাঁটু অব্দি পানি মারিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন সারতে চলাচল করতে হয় রাস্তায়। অনেক বাসিন্দার বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটছে প্রায় নিয়মিত। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভোটারের ৬নং ওয়ার্ডের জামতলা এলাকার মানুষের ভোগান্তি সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলেও পানি সরে যেতে সময় লাগছে কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা। এছাড়াও অধিকাংশ রাস্তায় পানি জমে থাকার ঘটনা নিয়মিত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে স্যাঁতসেতে অবস্থা। যা থেকে সংক্রমণ হতে পারে পানিবাহিত নানা রোগের জীবাণু।
অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিপাতেই এই ওয়ার্ডের আরপিননগর এলাকার বাসিন্দারাও জলাবদ্ধতা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দক্ষিণ আরপিননগর এলাকার বাসিন্দাদের বসতঘর ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ছে প্রায়ই। এই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও আরপিননগর এলাকা থেকে নতুনকোর্ট এলাকা পর্যন্ত একটি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রয়াত মেয়র আয়ূব বখত জগলুলের পক্ষ থেকে দক্ষিণ আরপিননগরের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে এই ড্রেন নির্মাণের আশ্বাস পেয়েছিলেন।
এছাড়া ভোটারবহুল এলাকা তেঘরিয়া, লম্বাহাটি ও বড়পাড়া এবং আমপাড়া নিয়ে গঠিত পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন। আমপাড়া এলাকার ড্রেন থেকে পানি উপচে প্রধান রাস্তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এলাকার বাসিন্দাদের বসতবাড়ির উঠোনে জমছে। দুর্গন্ধযুক্ত ও আবর্জনাসহ এসব পানি মারিয়ে চলাচল করতে দেখা যায় লোকজনকে। এ কারণে এলাকায় দেখা দিচ্ছে চর্মরোগ। সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও সমাধানে কোন উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যক্ত করছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।
৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাহুল মিয়া বলেন ‘আমাদের এলাকায় প্রায় অধিকাংশ রাস্তাগুলোতেই বৃষ্টি দিলে হাঁটু পানি হয়ে যায়, এই পানি বৃষ্টি বন্ধ হলেও ৬ থেকে ৭ ঘন্টা স্থায়ী থাকে, বার বার আমরা এই সমস্যার কথা পৌরসভাকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো সমাধানের কোন উদ্যোগ নেই’।
৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ আপন বলেন ‘পানি এমনভাবে জমে যায় যে চলাফেরাও কষ্টকর হয়ে যায়, রাস্তার উপর দিয়া ড্রেইনের পানি যায়, দুর্গন্ধ আর ময়লা আবর্জনায় সারা এলাকা ভরে যাচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নাই’।
৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবাবিলনূর সুনামগঞ্জের খবর কে বলেন ‘আমার এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তাদের সাথে আলোচনা করে ড্রেন নির্মানের প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি, আরপিননগর এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে আমরা আরপিননগর থেকে নতুন কোর্ট এলাকার কালভার্ট অব্দি একটি ড্রেনেজ লাইন নির্মাণের টেন্ডার দিয়েছি, অন্যদিকে জামতলা এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য জামতলা থেকে কামারখাল অব্দি আরেকটি ড্রেনেজ লাইন নির্মাণের কাজও শুরু হচ্ছে, এগুলো হয়ে গেলে এই জলাবদ্ধতা সমস্যা আর থাকবে না’।