ভোটার আইডি নিয়ে এসেও ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকে

স্টাফ রিপোর্টার
আমি তিনঘণ্টা ধইরা ঘুরেরাম, এক রুম থাকি আরেক রুমে আমারে পাঠানি অয়। হকল স্যারেই কইন ইখানো নায়, হখানো যাইন, কোনখানোই ভোট দিতাম পারছি না, অখন যাইমুগি বাড়িত।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ইকরছই সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে ইকরছই গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক কাজী নামের একজন ভোটার সাংবাদিকদের দেখে এগিয়ে এসে এভাবেই বিরক্তির কথা জানাচ্ছিলেন।
গণমাধ্যম কর্মীরা এসময় তাকে শান্তনা দিয়ে বলেন, আপনি দাঁড়ান প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে আপনার কষ্টের কথা জানানো হবে।
মিনিট খানেকের মধ্যেই আরও দুইজন বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটার সুজাত খান ও মুজিবুর রহমান এগিয়ে এসে বললেন, ‘আমরা সকালে একবার আইছি ভোট দিতাম পারছি না। এখন আরেকবার আইয়া ঘুররাম। পারলে একটু সাহায্য করউকা।’
হেকিম উল্লা নামের আরেক ভোটার জানালেন, তিনি তিনবার এসেছেন ভোট দিতে পারছেন না।
কেন্দ্রের বুথ কক্ষে থাকা পুলিং অফিসার মিতালী রায় বললেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু ভোটাররা যে কক্ষে আসেন, ওই কক্ষে তাদের ভোট থাকে না। কারো কারো নম্বর মিলিয়ে আমরা বলে দিচ্ছি, কোন কক্ষে যাবেন। কাউকে কাউকে সহযোগিতা করতে পারছি না।
সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার অজয় কৃষ্ণ পাল বললেন, আব্দুর রাজ্জাক কাজী সকল কক্ষেই গেছেন, সবাই আমাদের বুথে কক্ষের কথা বলেছেন, আমরা তিনবার মিলিয়ে দেখেছি তার ভোটার আইডিতে (নম্বর ১৯৮১৯০২৪৭০৭০০০০০৩) আরেক জনের নাম ঠিকানা দেখাচ্ছে, এজন্য ভোট নিতে পারছি না।
পাশের বুথ কক্ষের পুলিং অফিসার মইনুদ্দিন তাদের বুথ কক্ষে আসা অন্তত. ২০ জন ভোটারকে নম্বর চেক করে বুথ কক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন বলে জানালেন।
ভোটাররা ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে এসে ভোট না দিয়ে ফেরৎ যাচ্ছেন এই বিষয়টি প্রিজাইডিং অফিসার দেলোয়ার হোসাইনকে জানালে, তিনি কক্ষে কক্ষে গিয়ে আব্দুর রাজ্জাক কাজীসহ কয়েকজনকে ভোট দেবার ব্যবস্থা করেন। পরে দেখা গেছে, তিন নম্বর বুথ কক্ষেই এই আইডিতে ভোট দেওয়া যাচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভোটে ইকরছই সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে কেন্দ্রে কেবল এই অবস্থা হয় নি, ইভিএম ভোটে অনেক কেন্দ্রেই এমন ভোগান্তি ছিল।
ইকরছই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন অবশ্য বললেন, ভোট কেন্দ্রের বাইরে ভোটারের নম্বর লিখে দেবার মতো কোন লোক না থাকায় ভোটার আইডি নিয়ে অনেকে ভোট দিতে এসেছেন। তাদের নম্বর খুঁজতে গিয়ে কারো কারো বিলম্ব হয়েছে। আমাকে জানালে আমি ভোট দেবার ব্যবস্থা করেছি। অন্য অফিসাররাও সহায়তা করেছেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট সিদ্দিক আহমদ, চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা ও সৈয়দ তালহা নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে মন্তব্য করেছেন। তবে ভোটার আইডি সঙ্গে নিয়ে এসেও অনেকে ভোট দিতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন জানালেন তারা।