ভোটার উপস্থিতি ছিল কম

স্টাফ রিপোর্টার
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ইভিএমে সকাল আটটা থেকে এক টানা ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা বলছেন, এবার ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম ছিলো। ভোটারদের ভোট প্রদানে উৎসাহিত করতে পারেন নি প্রার্থীরা, একারণেই এমনটি হয়েছে মনে করেন তারা।
মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৭৭৭ জন। সকাল ৮ টা থেকে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র দুইশ’ টি। বিদ্যালয়ের মাঠে রশি দিয়ে ৩ টি লাইনের ব্যবস্থা করা হলেও কোনো লাইনেই তেমন ভোটার নেই। সকাল ১০ টা পর্যন্ত পুরুষদের একটি লাইনে কয়েকজন ভোট প্রদান করতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাকী ২ টি লাইন ছিলো ফাঁকা। এনিয়ে কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, ইভিএম নতুন হওয়ায় তারা বুঝতে পারছেন না আবার কেউ বলছেন প্রার্থীরা ভোটারদের ভোট প্রদান করতে উৎসাহিত করতে পারেন নি।
এই কেন্দ্রের বায়োজেষ্ঠ ভোটার সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোট দিতে বড়ই ঝামেলা। ভোট দিতে গিয়ে টিপাটিপি করা লাগে। এসব বুঝি না কোনটায় টিপ দিমু কোনটায় না। আগেই ভালো ছিলো।
তবে একই কেন্দ্রের ভোটার তরুণ ভোটার ইমদাদুর রহমান সুমন বলেন, প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দিয়েছি। ইভিএমে ভোট দেয়া খুব সহজ। কোনো বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই। আমি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুশি। অন্য বারের চেয়ে এবার ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। প্রার্থীরা মানুষকে ভোট কেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করতে পারেন নি। এজন্য এবার অনেকে ভোট দিতে আসেন নি।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জহিরুল ইসলাম বললেন, সকাল ৮ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সুষ্ঠু সুশৃঙ্খল ভাবে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নতুন সিস্টেম হওয়ায় আমাদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কষ্ট বেশি হচ্ছে। বার বার বুঝিয়ে দিতে হয়েছে। উপজেলার ৫ টি কেন্দ্র ঘুরে কোথাও ভোটারের লাইন দেখা যায় নি।
প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮৯টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, সকল কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটারা স্বতস্ফূর্তভাবে ইভিএমএ ভোট দিয়েছেন।