মওসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি- কোন কোন এলাকায় বোরো ধানের ক্ষতি, বজ্রপাতে নিহত ১

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে মওসুমের প্রথম ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কোন কোন এলাকায় বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা বলেছেন, ‘ধানের থোড় আসার সময় যেসব জমির ধান গাছে শিলাবৃষ্টি আঘাত করেছে সেই ধানের থোড় সাদা হয়ে যাবে এবং ওই থোড়ের সব কয়টি ধান চিটা হয়ে যাবে।’ বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে কয়েক মিনিট এই শিলাবৃষ্টি হয়। এর আগে দুপুরে বজ্রপাতে জামালগঞ্জে এক কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে।
শিলাবৃষ্টিতে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওরের ফসলের। এছাড়া জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, ধর্মপাশা, দোয়ারাবাজার এবং ছাতকের কিছু অংশে শিলা বৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুরের কৃষকরা জানিয়েছেন, উপজেলা সদরের আশপাশের করচার হাওরে এবং উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের কৃষকদের ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে বেশি।
করচার হাওরপাড়ের বিশ্বম্ভরপুরের কৃষক আলী হোসেন ও আব্দুল আজিজ বলেন,‘উপজেলা সদরে যেভাবে শিলাবৃষ্টি হয়েছে হাওরের জমিতে সেভাবে শিলাবৃষ্টি হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে ফসলের।’
ফতেহ্পুর গ্রামের কৃষক প্রসূন কান্তি দাস বলেন,‘গ্রামের আশপাশের করচার হাওর এবং শনির হাওরের একাংশে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ধানে থোড় বের হবার সময় এমন শিলাবৃষ্টি যে ধান গাছে পড়বে, ওই ধান গাছের ছড়া বা থোড় সাদা হয়ে যাবে। অর্থাৎ পুরো ছড়াই চিটা হয়ে যাবে। এই ছড়ায় আর ধানের গোটা হবে না।’
করচার হাওরপাড়ের ফিরোজপুরের কৃষক টিটু দাস বলেন,‘শিলাবৃষ্টিতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা হাওরে গিয়ে দেখলে বুঝা যাবে।’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন,‘শিলাবৃষ্টিতে বাওন বিলসহ আশপাশের হাওরগুলোর ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।’
সদর উপজেলার কাঠইর ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম জানালেন, শিলাবৃষ্টি হলেও ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি।
এদিকে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টায় জামালগঞ্জের
কাশিপুর গ্রামের সামনের হাওরে গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন (১৭) নামের এক কৃষকের বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটেছে।
জামালগঞ্জ থানার ওসি আবুল হাসেম জানিয়েছেন. নিহত কিশোর দেলোয়োর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের জহুর মিয়ার ছেলে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বশির আহমদ জানিয়েছেন, মওসুমের প্রথম ঝড় ও শিলাবৃষ্টি রোববার হয়েছে। তবে ব্যাপক কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কেউ দেননি।