মখলিসের ঘরেই গাঁজার হাট

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে মাদক স¤্রাট মখলিস মিয়ার বসবাসের ঘরেই প্রতিদিন বসে গাঁজা বিক্রি ও সেবনের আসর।
নিজে সেবন করে এলাকার গাঁজাখোরদের কাছে গাঁজা বিক্রির হাট প্রতিদিনই বসছে তার ঘরে। তাকে সহায়তা করছেন পরিবোরের অন্যান্য সদস্যরা।
জানা যায়, মখলিছ মিয়া কাদিপুর গ্রামের মৃত মাহমদ আলীর ছেলে। পঞ্চাশোর্ধ এই মাদক ব্যবসায়ী এর আগেও একাধিকবার পুলিশ ও এলাকাবাসীর তাড়া খেয়েছেন মাদক বিক্রির দায়ে। পুলিশের হাতে আটক হয়ে ১৫ দিন কারাভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন খোদ মখলিছ মিয়াই। নিজের ঘরে বসে গাঁজা বিক্রিতে একাধিকবার বাধা দিয়েছেন এলাকাবাসী। কারো কথায় কর্ণপাত না করে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে গাঁজার ব্যবসা। মহাসিং নদীর দক্ষিণপাড়ে দূরবর্তী গ্রাম হওয়ায় পুলিশের ঝামেলাও তেমন পোহাতে হয় না তাকে। পুলিশ তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে পালিয়ে যায় সে। এজন্য প্রতিদিনই রাজার হালে চালাচ্ছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এলাকাবাসী তার এমন কুকর্মে অতীষ্ট।
বিশ্ব¯ ’সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে এ প্রতিবেদক উপস্থিত হন মখলিছ মিয়ার বাড়িতে। পাগলা বাজারের উত্তর মাথা থেকে খেয়াঘাট পাড় হওয়ার পর তার বাড়িতে পৌঁছে দেখা যায় টিনশেডের ঘরের বারান্দায় বসে বিড়ি ফুঁকছেন মখছিল মিয়া। আর ভিতরে দুইজন হাতের মাঝে গাঁজা ঘষছেন। একজন বিশেষ ধরনের বটি দিয়ে গাঁজাকে কেটে কেটে দিচ্ছেন। পাশেই গাজা পুঁড়িয়ে খাওয়ার জন্য একটি ল্যাম্প জ্বালানো।
প্রতিবেদককে দেখে ‘খবরের সাংবাদিক আইছে’ বলেই পেছনের দরজা দিয়ে দৌঁড় দেয় তিনজনই। পালিয়ে যাওয়া তিন জনের মধ্যে একজনের নাম লিটন মিয়া, আরেকজন
ালকাছ মিয়া। অপর একজন গুণধর ব্যক্তি এলাকায় মেম্বার নামে পরিচিত। তবে একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপ করেও তার প্রকৃত নাম পাওয়া যায়নি। গাঁজাখোরদের ফেলে যাওয়া জিনিসপত্রের নাম জানতে চাইলে মখলিছ মিয়া জানান, একটার নাম কলকি, আরেকটা গাঁজা কাটার ছরতা। আরেকটার নাম বলতে চেয়েও বলেননি।
মখলিছ মিয়ার সাথে আলাপ করার সময় পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন মখলিছ মিয়ার অসুস্থ ছেলে আইনুল হক। তিনি বললেন, ‘আমার বাবা এই ব্যবসা আগে করতেন। এজন্য তার ১৫ দিনের জেলও হয়েছে। এখন আর তিনি এসব ব্যবসা করেন না।’
তবে তার প্রতিবেশি ফয়জুল আলম বললেন অন্য কথা। তিনি বলেন, ‘মখলিছ মিয়া ১০০ ভাগ গাঁজা ব্যবসায়ী। বিকাল থেকে তার বাড়িতে মানুষের আসা যাওয়া শুরু হয়। এই এলাকার পরিবেশ সে নষ্ট করে ফেলছে। আমরা অনেক বার বলেছি। আমাদের সাথে ঝগড়া হয়। এই এলাকাটাকে সে অতিষ্ট করে ফেলেছে। এটা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া দরকার।’
ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও কাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা আজাদুল হক বলেন, ‘আমরা মখলিছ মিয়ার যন্ত্রণায় অতীষ্ট। বার বার নিষেধ করার পরও সে মানছে না। প্রকাশ্যে গাঁজার ব্যবসা করেই যাচ্ছে। তার বাড়িতে বসে সে গাঁজা সেবন করে এবং অন্যকেও খাওয়ায়। আমরা এই মাদকের হাট বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাই।’
অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী মখলছিস মিয়া বলেন, ‘আমি আগে এর ব্যবসা করেছি, এখন আর করি না। এখন শুধু খাই। আমার সাথে দু’চার জন বসে খায়। আমাদের এলাকার একজন গাঁজাখোর আমার কাছে এসে গাঁজা খোজে। আমি এখন এসবের ব্যবসা করি না। পাবো কোথায় ? দেই না বলে আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। আমিও খেতে পাই না। আমার ঘরে বসে যারা খায় তারা আনলে আমি খাই। আমি এখন আর এসব ব্যবসয় নাই।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ছুটিতে আছেন জানিয়ে দায়িত্বে থাকা এসআই মো. আলা উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দু’এক দিনের মধ্যেই মখলিছ মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালাবো। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’