মঙ্গলকাটা-ডলুরা সড়কে দুর্ভোগ

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজার থেকে ডলুরা শহীদ মিনার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ১০ বছরে মঙ্গলকাটা বাজার থেকে ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে এবং ত্রিমুখি সড়ক থেকে চৌমুহনী বাজার হয়ে ডলুরা শহীদ মিনার পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজ হয়েছে দুই বার। এই সড়কের মেরামত কাজে ঠিকাদারগণ নানাভাবে অনিয়ম করে থাকেন। তাদের খেয়াল খুশিমত কাজ করে চলে যান। এই সড়কের মঙ্গলকাটা বাজার থেকে মুছরা পর্যন্ত, কামারগাঁও, চৌমুহনী বাজার এলাকা, ফেনিবিল ও ডলুরা এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ভাঙন রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাকা ঢালাই ভেঙে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে রড বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনের গর্তে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয় এবং শুকনার দিনে গর্তে জমে থাকা ধুলাবালি গাড়ি চলাচলে উড়ে আশপাশ এলাকার পরিবেশ নোংরা হয়।
পথচারী আবু ইউসুফ বলেন, মঙ্গলকাটা-ডলুরা ঠিকাদারদের অনিয়ম করার একটি অন্যতম সড়ক। বিগত সময়ে এই সড়কের মেরামত কাজ স্থানীয় কিছু ঠিকাদার নিয়ে বাইরের ঠিকাদারগণ ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। স্থানীয় ঠিকাদারেরা প্রভাব খাটানোয় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে পারেননি। যেমন খুশি তেমন কাজ করে চলে যান।
সুরুজ আলী বলেন, মঙ্গলকাটা-ডলুরা সড়কের কাজে ঠিকাদারের বাণিজ্য উৎসব। খোলা ময়দানে অনিয়ম করলেও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। কাজের বিবরণ সম্বলিত মেরামত কাজের কোনো সাইন বোর্ড সাঁটানো থাকে না।
হানিফ মিয়া বলেন, মঙ্গলকাটা-ডলুরা সড়কে চলাচলে মানুষের চরম ভোগান্তি। প্রতিদিন হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। বিগত সময়ে স্থানীয় কতিপয় ঠিকাদারেরা এই সড়কের কাজ করে মারাত্মক দুর্নীতি করেছেন। এই কারণে সড়ক ভেঙে যায় মেরামতের কয়েক সপ্তাহ পর। এবার আমাদের দাবি সড়কের টেকসই উন্নয়ন।
সমরাজ আলী বলেন, মঙ্গলকাটা-ডলুরা সড়ক মেরামতের সময় ঠিকাদারেরা সংকীর্ণ করে মেরামত করেন। সড়ক মেরামতে প্রস্ত ও উচ্চতা উল্লেখপূর্বক সাইনবোর্ড সাঁটানোর দাবি আমাদের। একই সাথে সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের দাবিও জানাই।
মটরবাইক চালক হাফিজুর রহমান বলেন, মঙ্গলকাটা-ডলুরা সড়ক মেরামতের জন্য প্রতিবার বড় বড় বরাদ্দ আসে। কিন্তু কাজ হয় না সেই রকম। চলে শুধু অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট। সড়কের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের মঙ্গলকাটা এলাকায় উন্নয়ন কাজে অনিয়ম হয় বেশি। মিথ্যা মামলায় আসামী হওয়ার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেন না। এবার আমরা অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো সাংগঠনিকভাবে। মানসম্পন্ন উন্নয়ন কাজে অবশ্যই সহযোগিতা করবো।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, সুরমার উত্তরপাড়ে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম হয়। এ কথা আমি যেমন জানি, এভাবে সবাই জানেন। প্রতিবাদ করে না মিথ্যা মামলার ভয়ে। যেভাবে বরাদ্দ আসে, টেকসই কাজ হলে ১৫ বছরের মধ্যে আর মেরামতও লাগবে না। আমাদের এলাকার টেকসই উন্নয়নের দাবি জানাই।
শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলকাটা-ডলুরা সড়কে গালা ঢালাই করে মেরামত করা মানানসই নয়। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে ডুবে যায় এখানকার হাট-বাজার ও রাস্তা-ঘাট। পানি ডুবে যাওয়ায় নষ্ট হয় চলাচলের প্রধান সড়ক। সড়কের মেরামত কাজ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা উচিৎ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব বলেন, মঙ্গলকাটা ডলুরা সড়কে গত ১০ বছরে দুই বার কাজ হয়েছে। সড়কের মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সড়কের যে স্থানে আর.সি.সি ঢালাই প্রয়োজন, সেখানে কাঁচা মাটির উপরও দেয়া হয়েছে গালা ঢালাই। পাকা সড়কের উপর যে গালা দেয়া হয়েছে, এটা শুধু মাত্র প্রলেপ। কাজের বিবরণ সম্বলিত দৃশ্যমান স্থানে সাঁটনো থাকে না কোনো সাইন বোর্ড। ব্যক্তিগত আক্রোশ বাড়াতে কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করতে চান না।
সদর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলকাটা বাজার থেকে ডলুরা শহীদ মিনার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কের মেরামত কাজের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার বাজেট পাঠানো হয়েছে। এই বাজেট অনুমোদন হয়ে আসলে কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। ঠিকাদার নিয়োগের পর ওয়ার্ক অর্ডার পেলে কাজ শুরু হবে।