মধ্যনগরে শত নারীর মুখে হাসি ফুটালো পাওয়ার অব শি

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গেল বন্যায় কারও বিনষ্ট হয়েছে ঘরবাড়ি। অনেকেই হারিয়েছেন আয়ের একমাত্র অবলম্বন। বাড়তি আয়ের জন্য হাওরপাড়ের যে সকল নারী গৃহে লালন করতেন গৃহ পালিত পশু, তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাপক পরিমাণে। মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এমন ১০০ নারীকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে ঢাকাস্থ মানবিক সংগঠন ‘পাওয়ার অব শি’। জিএমএস গার্মেন্টসের আর্থিক সহায়তায় সংগঠনের ‘পাশে আছি’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে রবিবার বেলা ১১টায় মধ্যনগর বিপি হাই স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে নির্বাচিত নারীদের প্রত্যেকের মাঝে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। নগদ অর্থ বিতরণের আগে এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান। সংগঠনের সমন্বয়ক সমকালের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক রমাপ্রসাদ বাবুর পরিচালনায় বক্তব্য দেন মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার, মধ্যনগর বিপি হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার তালুকদার, পাওয়ার অব শি’র প্রজেক্ট চিফ সাবিনা স্যাবি, মধ্যনগর থানার ওসি জাহিদুল হক, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমারঞ্জন সরকার।
পাওয়ার অব শি’র প্রজেক্ট চিফ সাবিনা স্যাবি বলেন, ‘আমরা নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করি। যাদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে তারা যেন সেই সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে মনের শক্তিকে কাজের শক্তিতে রূপান্তর করে হাঁস—মুরগী পালন করেন। তাহলেই তাঁরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’
মধ্যনগর থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, ‘বন্যার ভয়াবহতা নিজ চোখে দেখেছি। মধ্যনগরের মানুষ যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে হিসেবে ‘পাওয়ার অব শি’ তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন করায় তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘বন্যায় মানুষের কোনো রকম প্রস্তুতি ছিলনা। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল তা সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহায়তায় মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। ‘পাওয়ার অব শি’ শত নারীকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আশা রাখি সামনের যে কোনো বিপর্যয়ে তারা আবারও মধ্যনগরবাসীর পাশে দাঁড়াবে।’