মরমি কবি হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার
আজ মরমি কবি হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উদ্যাপনের জন্য সরকারি কিংবা পারিবারিকভাবে সুনামগঞ্জে তেমন কোন কর্মসূচি নেই। তবে জেলা কালচারাল অফিসার জানিয়েছেন, আগামী ২১ ডিসেম্বর মরমী এই সাধকের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী একসঙ্গে পালন করা হবে।
বিশাল অঞ্চলের জমিদার ছিলেন মরমী গীতিকবি হাসন রাজা। পিতা ও মাতা উভয়ের কাছ থেকে পাওয়া বিশাল জমিদারীর মালিকানা চলে আসে কিশোর বয়সে তাঁর হাতে। বেহিসাবী সম্পদ আর ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এক সময় তার ভেতরের ভ্রান্তি ঘুচে যায়। তিনি একসময় সম্পদ বিমুখ হয়ে কয়েকজন সঙ্গিনীকে নিয়ে হাওরে হাওরে ভাসতে থাকেন। আর এর মধ্যে খুঁজতে থাকেন সেই মহা পরাক্রমশালীকে। সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজতে খুঁজতে এক সময় আবিষ্কার করেন, তাঁর নিজের মধ্যেই তাঁর বাস। সৃষ্টিকর্তার প্রেমে পাগল হাসন রাজা সেই সময় থেকেই নিজের সৃষ্টি গান গেয়েই বিখ্যাত হয়েছেন দেশে-বিদেশে।
‘আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে’, ‘একদিন তোর হইব রে মরণ রে হাসন রাজা’ ‘মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে কান্দে হাসন রাজা মন মনিয়া রে’, ‘প্রেমের বান্ধন বান্ধরে দিলের জিঞ্জির দিয়া’, ‘রঙের বাড়ই রঙের বাড়ই রে’, ‘আমি না লইলাম আল্লাজির নাম রে’, ‘লোকে বলে ঘরবাড়ি বাালানা আমার’, আগুণ লাগাইয়া দিলও কুনে হাসন রাজার মনে,’ ‘গুড্ডি উড়াইল মোরে, মৌলার হাতের ডুরি’, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের লেখক হাসন রাজা ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ ১২৬১) সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণশ্রী পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান শামসুল আবেদীন জানালেন, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হাসন রাজা মিউজিয়ামের কাজ স্থগিত হয়ে যায়, আমরা আশা করছি, বঙ্গবন্ধু’র কন্যা এই কাজটি করবেন। হাসন রাজা’র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিক কোন কর্মসূচি না থাকলেও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলসহ নানা অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা থাকবেন বলে দাবি করলেন তিনি।
জেলা কালচারাল কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল জানালেন, হাসন রাজার জন্মদিনও এই মাসের ২১ ডিসেম্বর, প্রখ্যাত এই মরমী কবি’র জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী একসঙ্গে উদ্যাপনের চিন্তা করছেন তাঁরা।