মরুতে বিজয় নিশান

সু.খবর ডেস্ক
দু’জনের সুস্থতা নিয়ে ম্যাচের আগে ছিল সংশয়। ছিল বড় চোটের শঙ্কা। সেই শঙ্কা সত্যি হলো একজনের ক্ষেত্রে, অন্যজন ম্যাচটা খেললেন শারীরিক কষ্টকে দমিয়ে রেখেই। কিন্তু ব্যাটিং ইনিংসে বাংলাদেশের নায়ক সেই দু’জনই। একজন তামিম ইকবাল, কব্জিতে চিড় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পরও দলের প্রয়োজনে যিনি আহত হাত নিয়েই নেমে গেলেন মাঠে। অন্যজন মুশফিকুর রহিম, পাঁজরের ব্যথা নিয়ে খেললেন ওয়ানডেতে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংস। শেষ উইকেটে এই দু’জনের জুটিতে মাত্র ২.৪ ওভারে উঠল ৩২ রান। সেই সুবাদে শুরুর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ পেল ২৬১ রানের সংগ্রহ। রান তাড়ায় নেমে শ্রীলংকা গুটিয়ে গেল ১২৪ রানেই। ১৩৭ রানের এই হার রান ব্যবধানে এশিয়া কাপে লংকানদের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ গতকালকের ম্যাচটা খেলেছে ঘরের মাঠের আমেজেই। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দলে দলে এসেছিলেন মাঠে, উল্লাসধ্বনি করছিলেন প্রিয় দলের নামে। কিন্তু প্রথম ওভারেই সেই উল্লাসধ্বনি থামিয়ে দেন প্রায় এক বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামা লাসিথ মালিঙ্গা। ওভারের শেষ দুই বলে তুলে নেন লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানের উইকেট।
বাংলাদেশ আরও বড় ধাক্কা খায় পরের ওভারে। আঙুলের চোট পুরোপুরি না সারলেও এশিয়া কাপ খেলতে গিয়েছিলেন তামিম। দ্বিতীয় ওভারে পান আরও বড় চোট। সুরাঙ্গা লাকমলের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে বল লাগে বাম হাতের কব্জিতে। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যান তামিম। ফিজিও এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মাঠ ছেড়ে যান তিনি। পরে জানা যায়, কব্জিতে চিড় ধরা পড়েছে তার। কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ লাগবে মাঠে ফিরতে।
নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনও ফিরতে পারতেন শুরুতেই। ব্যাটের কানায় লেগে মিড অনে যাওয়া বল মুঠোবন্দি করতে পারেননি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। এরপর জীবন পান মুশফিকুর রহিমও। থিসারা পেরেরার বলে তার ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন দিলরুয়ান পেরেরা।
জীবন পাওয়া দুই ব্যাটসম্যান এরপর বাংলাদেশের ইনিংসকেও নতুন জীবন দেন। দু’জনের জুটি স্কোর বোর্ডে যোগ করে ১৩১ রান। মন্থর শুরুর পর এই দু’জনের ব্যাট বাংলাদেশের ইনিংসকে এনে দেয় গতি। প্রথম দশ ওভারে রান উঠেছিল মাত্র ২৪, পরের দশ ওভারে স্কোর বোর্ডে যোগ হয় ৭৮ রান।
লাকমলের বলে থার্ডম্যান দিয়ে চার মেরে নিজের ফিফটির পাশাপাশি দলের রানকে তিন অঙ্কে নিয়ে যান মিঠুন। খানিকবাদে দাসুন শানাকার বলে সিঙ্গেল নিয়ে মুশফিকও ফিফটি পূরণ করেন।
নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আবারও বাংলাদেশকে ধাক্কা দেন মালিঙ্গা, ফেরান ৬৩ রান করা মিঠুনকে। পরের ওভারে আমিলা আপোন্সোর বলে আউট হন ১ রান করা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
মালিঙ্গা এরপর ফেরান ১ রান করা মোসাদ্দেক হোসেনকে।
নতুন ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে এরপর আবার দলকে খাদ থেকে টেনে তুলছিলেন মুশফিক। সেই জুটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে ১৫ রান করা মিরাজকে ফিরিয়ে ৩৩ রানের জুটি ভাঙেন লাকমল।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও এদিন খেলতে পারেননি দারুণ কোনো ক্যামিও ইনিংস। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে আউট হওয়ার আগে করেন ১৮ বলে ১১ রান। এরপর ২ রান করা রুবেল হোসেনকেও এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন ধনঞ্জয়া।
নবম উইকেটে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়ে দলকে আরও খানিকটা টানেন মুশফিক। তখনও পর্যন্ত সেটাই যে শেষ উইকেট জুটি! কিন্তু ১০ রান করে মুস্তাফিজ রানআউট হয়ে ফেরার পরেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে পড়েন তামিম। একটা বলই খেললেন, সেটাও এক হাতে ব্যাট ধরে।
তবে তামিমকে অন্য পাশে পেয়ে মুশফিক যেন নতুন জীবন পান। পরের ওভারে থিসারা পেরেরাকে মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা। মাঝে দাশুন শানাকার ওভারটা একটু দেখেশুনে খেললেও ইনিংসের শেষ ওভারে পেরেরাকে পেয়ে আবার রাশ আলগা করেন। প্রথম দুই বলেই মারেন ছক্কা। তৃতীয় বলটাও উড়িয়ে মারতে গিয়েছিলেন। সেটা গিয়ে জমা পড়ে লং অনে থাকা মেন্ডিসের হাতে।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার কুশল মেন্ডিসকে হারায় শ্রীলংকা। রানের খাতা খোলার আগেই তাকে ফেরান মুস্তাফিজ। পরের ওভারে ২৭ রান করা আরেক ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে ফেরান মাশরাফি। নিজের তৃতীয় ওভারে মাশরাফি তুলে নেন ধনঞ্জয়াকে। দশম ওভারে মিরাজ ফেরান ১১ রান করা কুশল পেরেরাকে।
এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে লংকানরা। দাসুন শানাকা রানআউট হয়ে ফেরার পর ১৬ রান করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে ফেরান রুবেল। ৬ রান করে মিরাজের বলে ফেরেন থিসারা পেরেরা। সাত উইকেটে লংকানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৯।
এরপর দিলরুয়ান পেরেরার ৪৪ বলে ২৯ আর লাকমলের ৩৫ বলে ২১ রানের ইনিংস কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমেছে। অফকাটারে লাকমলকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। মোসাদ্দেকের বলে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন দিলরুয়ান।
শূন্য হাতে ফেরেননি বোলার সাকিবও। আমিলা আপোন্সোর ক্যাচ চারবারের চেষ্টায় মুঠোবন্দি করেন বদলি ফিল্ডার নাজমুল হোসেন শান্ত। মরুর বুকে শুরুর ঝড় সামলে বাংলাদেশ ভেড়ে জয়ের বন্দরে। দারুণ ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে মুশফিকের হাতে।
সূত্র : সমকাল