মল্লিকপুর সড়কটির দুর্দশা দূর করুন

শহরের আব্দুজ জহুর সেতুর নতুন সংযোগ সড়কের নীচের পুরানো সড়কটির দুর্ভোগ ও দুরবস্থা নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে একদা প্রধান এই সড়কটির বিড়ম্বনা দেখে সকলেই দুঃখিত হবেন। নতুন সংযোগ সড়ক হওয়ার পর ওই পুরানো সড়কটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়েনি। এই সড়কটির উপযোগিতাও শেষ হয়নি। কারণ মল্লিকপুর এলাকার লোকজনের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটিই। যেসব যানবাহন সেতু অতিক্রম করে তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর যায় না সেগুলো এই সড়ককে বিকল্প সড়ক হিসাবেও ব্যবহার করে। এ ছাড়া মল্লিকপুর এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তরসহ বিশাল আবাসিক এলাকার কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের জন্য এই সড়কটি এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আব্দুজ জহুর সেতু চালু হওয়ার পর থেকে পুরানো এই সড়কটির প্রতি এক ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। গতকালকের সংবাদের তথ্য থেকে জানা যায়, সড়কটির উপর বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, কিছু অকেজো যানসবাহন স্থায়ীভাবে রেখে দেয়া হয়েছে। আশপাশের ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখা হয় সড়কের উপর। এই আবর্জনা সরিয়েও নেয়া হয় না ফলে সড়কটির স্থানে স্থানে ময়লার স্তুপ জমা হয়ে আছে। সড়কটি বিভিন্ন জায়গায় ভেঙেচূড়ে গেলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। রাস্তা ভাঙার ফলে যেসব গর্ত তৈরি হয়েছে সেখানে বৃষ্টির পানি জমে সড়ককে কর্দমাক্ত করে রাখে। অর্থাৎ এক কথায় এই সড়কটিকে এখন মানুষ ও যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে। একটি রাস্তাকে এমন করুণ অবস্থায় ফেলে রাখার পিছনে কার্যত কোন যুক্তি থাকতে পারে না।
শহরের প্রধান এই সড়কটিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর একটি হলো, ছোট যানবাহন ও পথচারী যারা মল্লিকপুর-ওয়েজখালি হয়ে ওইদিকে যাবেন তাদের জন্য এটিকে বিকল্প সড়ক হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাহলে সেতুর উপর যানবাহনের চাপ কমে আসবে। এটি একটি দিক। কিন্তু প্রধান দিক হলো, মল্লিকপুর এলাকায় যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগ দুর্ভোগ লাঘব করা। রাস্তাটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী রাখা কোটি টাকার কোন মামলা নয়। একটু সচেতন উদ্যোগ নিলে সহজেই এই সংস্কার কাজটুকু অনায়াসেই করা সম্ভব। আর রাস্তাকে যেভাবে কিছু যানবাহন মালিক তাদের গ্যারেজ হিসাবে ব্যবহার শুরু করেছেন তা থেকে পরিত্রাণ পেতে দরকার শুধু আইনের প্রয়োগ। ময়লা আবর্জনা মুক্ত রাখাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার উপর নির্ভর করে। সোজা কথা হল, এই রাস্তাকে সুন্দর পরিচ্ছন্ন ও কার্যক্ষম রাখতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা জাগ্রত হওয়া আবশ্যক। আমরা আশা করব ওইসব প্রতিষ্ঠান সড়কটির নিরব কান্না ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে একটু নড়ে চড়ে বসবেন। বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে ফেলে বলে বাংলায় একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে। এখানে আব্দুজ জহুর সেতুর দৃষ্টিনন্দন সুপরিসর ও সুন্দর সংযোগ সড়কটি যদি আগের ছোট সড়কটিকে ধ্বংস করে দেয় তাহলে সংযোগ সড়কটিকে আগ্রাসী বড় মাছ হিসাবে পরিচিত করে ফেলার নামান্তর হবে। একটি বড় উন্নয়ন কর্মকা-কে এমন আগ্রাসী নামকরণের দিকে ঠেলে দিবেন না দায়িত্বশীলরা, এই আমাদের কামনা।