মশক নিধনে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের গুরুত্ব অনেক

জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে শহরব্যাপী যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে সেটি খুবই সময়োপযোগী। বিশেষ করে যখন সারা দেশে ডেঙ্গু আতঙ্ক জনমনে ভয় তৈরি করেছে সেসময় এমন পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা একান্তই প্রয়োজনীয়। মশা শুধু ডেঙ্গু রোগের বাহক নয়। আরও বিবিধ রোগের বাহকও এই ক্ষুদ্র দুর্বৃত্ত কীটটি। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে মশা। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মানুষকে রীতিমতো প্রতি দিন-রাত লড়াই করতে হয়। খরচ করতে হয় অনেক টাকা। এক একটি পরিবারে এখন মশার হাত থেকে বাঁচতে কয়েল, স্প্রে ইত্যাদি খাতে যে টাকা খরচ করা হয় তা নেহায়েৎ ফেলনা নয়। এই টাকা মশার হাত থেকে বাঁচতে খরচ করার প্রয়োজন না পড়লে তা দিয়ে অনায়াসেই পরিবারের অনেক জরুরি প্রয়োজন মেটানো যেত। ডেঙ্গু ভীতি ছড়িয়ে পড়ার অব্যবহিত পর থেকেই মশার কয়েল ও স্প্রের দাম বাজারে বেড়ে গেছে। অর্থাৎ প্রাণঘাতী একটি আতঙ্ককে ব্যবসায়ী-কর্পোরেটগোষ্ঠী অবলীলায় মুনাফা অর্জনের উপলক্ষ বানিয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে মশার হাত থেকে বাঁচতে আমরা যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করি তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। শ্বাশকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের রোগীদের জন্য কয়েলের ধোয়া বা স্প্রের গন্ধ অত্যন্ত ক্ষতিকর। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে এসব রাসায়নিক। প্রতিনিয়ত এইসব রাসায়নিক ব্যবহার করে করে ইতোমধ্যে আমরা জনস্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি করে ফেলেছি। এখন সময় এসেছে কীভাবে এই ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করে মশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এই কারণেই চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযানের গুরুত্ব অনেক বেশি।
শহরের এমন কোন স্থান নেই যেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ নেই। আবাসিক এলাকাগুলোতে কচুরিপানা ও ময়লায় পরিপূর্ণ অনেক ডুবা বিদ্যমান। পৌরসভার ড্রেনগুলো ময়লায় পরিপূর্ণ থাকে। মানুষ যত্রতত্র গার্বেজ ফেলে রাখে। এসবই মশা প্রজননের উৎকৃষ্ট জায়গা। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকলে মশার প্রজননস্থল কমে যায়। প্রজননস্থল কমে গেলে মশার বংশবিস্তারও কমে আসবে। তাই নিজের নিজের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রত্যেকের নাগরিক কর্তব্য। এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি যদি পৌরসভা নিয়মিত মশক নিধনের ঔষধ স্প্রে করে তাহলে একটা সময়ে মশার হাত থেকে চিরতরে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব। তখন মশার ঔষধ বিক্রয়ের মুনাফাখোর কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্দয় হাত থেকেও মানুষ রক্ষা পাবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাসকে ঠিক করতে হলে প্রথম দিকে একটু কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। যারা নিজ নিজ বাসা-বাড়ির চারপাশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হবেন তাদেরকে জরিমানা বা অন্য প্রকার শাস্তি দিতে হবে। শাস্তির ভয়ে সকলেই নিজের বাসাবাড়িকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বাধ্য হবেন। এই করে করে একসময় এটি নাগরিক অভ্যাসে পরিণত হবে।
আমরা মশাকে বহাল তবিয়তে রেখে মশার প্রভাব থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে চাই না। আমরা চাই মশাকেই নির্মূল করে দিতে। এই কাজটি খুব বেশি কঠিন নয়। অর্থব্যয়ীও নয়। এজন্য দরকার শুধু সকলের সচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের তদারকি। নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে, মশার কামড়ের হাত থেকে রেহাই পেতে কেন আমরা নিজেরা নিজেদের আশপাশকে পরিচ্ছন্ন রাখব না? প্রত্যেকের ভিতর এই আত্মজিজ্ঞাসা জাগ্রত হোক। তাহলেই আমরা ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়াসহ যাবতীয় মশক মাধ্যমে জীবাণুবাহিত রোগের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাব। মশার কামড়ের নিত্য যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়ে আনন্দের সাথে বেঁচে থাকতে পারব। আসুন সকলে একটু সচেতন হই।