মসজিদের টাকা আত্মসাতে আদালতে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের পলমাটি জামে মসজিদের পুন:নির্মাণ কাজের টাকা আত্মাসাতের ঘটনায় সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা
হয়েছে। মামলা দায়ের করেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন। সম্প্রতি কমিটির অন্য দুই সদস্যকে বিবাদী করে এই মামলা দায়ের করেন তিনি।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন দায়েরকৃত মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করেন, কাতার চ্যারিটি সংস্থা থেকে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ আনা হয়েছে ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। চ্যারিটি সংস্থার শর্তানুসারে এবং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বরাদ্দের টাকা আনার আগে কাজের প্রথম পর্যায়ে মসজিদের তহবিলের টাকা দিয়ে কাজ শুরু করা হয়। এই সময় সকলের উপস্থিতিতে মসজিদের তহবিলের ১০ লাখ টাকা দেয়া হয় কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির সদস্য আব্দুল আওয়াল মিজবাহ ও আব্দুর রাশিদকে। চ্যারিটি সংস্থা থেকে বরাদ্দকৃত টাকা পাওয়ার আগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় মুসল্লিদের কাছ থেকে আরও প্রায় ৯ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এই দুই ব্যক্তি। উন্নয়ন কাজের শেষ পর্যায়ে চ্যারিটি সংস্থার সমুদয় টাকা উত্তোলন করে মুসল্লিদের ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু মসজিদের তহবিল থেকে দেয়া ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি তাঁরা।
তিনি আরো উল্লেখ করেন পর পর দুই শুক্রবার বাদ জুম্মা মসজিদের টাকা ফেরত দেয়ার কথা বললে আব্দুল আওয়াল মিজবাহ ও আব্দুর রাশিদ এই টাকা নেওয়ার বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মসজিদের সামনে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার পর মসজিদের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এবং মসজিদের তহবিলের টাকা উদ্ধারে সুবিচার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন।
এ বিষয়ে বিবাদী আব্দুল আওয়াল মিজবাহ জানান, পলমাটি জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য কাতার চ্যারিটি সংস্থায় আমি আবেদন করি। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এই বরাদ্দের প্রায় ১৯ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে ১২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জয়নাল আবেদীন নিয়ে গেছেন। মসজিদের রঙ করানো ছাড়া কোনো কাজ অসম্পূর্ণ নেই। মসজিদের তহবিল থেকে আমাকে দেয়া ১০ লাখ টাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।