মহামারী করোনা: উৎপত্তি, ইতিহাস ও করণীয়

এস ডি সুব্রত
পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক মহামারী এসেছে। বহুলোকের প্রাণহানি ঘটেছে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে মহামারী কি? কোন পর্যায়ে গেলে মহামারী বলা হয়। পৃথিবীর শুরু থেকেই প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ অগণিত মানুষের মৃত্যুর কারন হয়ে উঠেছে কোন প্রতিষেধক না থাকার কারণে।
মহামারী: কোন সংক্রামক রোগ যখন অতি দ্রুত বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমিত হয়ে পড়ে তখন সে অবস্থা কে বলা হয় মহামারী।
যে সংক্রামক রোগে বহুলোক মরে তাই মহামারী। বৈশ্বিক মহামারী হল রোগের মড়ক যা একটি বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে দেশ মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য ক্যান্সার -এ বহুলোক মারা গেলেও এটি মহামারী নয়,কারন এটি সংক্রামক নয়।
মহামারীর কারন: ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা যায় যে একশ বছর পর পর প্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর অভ্যন্তরের বিশাল প্লেটগুলো প্রকৃতির নিয়মে অবিরত নড়াচড়া করে।প্রতি একশো বছর পর পর প্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। শুরু হয় মহামারী।উজার হয় গ্রাম, হারিয়ে যায় নগর , ধ্বংস হয়ে যায় সভ্যতা, শুরু হয় মহামারী।ধারন করে ব্যপক আকার, মৃত্যু হয় অগণিত প্রাণের।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন এ বিভিন্ন জাতির নাফরমানির কারনে মহামারীতে ধ্বংসের কথা জানা যায়।মানুষ যখন আল্লাহর নাফরমানি তে লিপ্ত হয় তখন তাদের সঠিক পথের সন্ধান দিতে শুরু হয় এ মহামারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন জলে স্থলে অন্তরীক্ষে যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে তা মানুষের কৃতকর্মের ই ফল।
সনাতন ধর্মাবলম্ভীদের বিশ্বাস বিভিন্ন দেবদেবীর কর্মকান্ড বা মানুষের পাপের শাস্তি হিসেবে অনুজীবসৃষ্ট মহামারীর কারন হিসেবে কল্পনা করা হতো।
ওল্ড টেস্টামেন্টে এ ঈশ্বরের শাস্তি হিসেবে মহামারীর নিদর্শন পাওয়া যায়।
কিছুদিন আগেও কলেরার কারন হিসেবে কাল্পনিক ওলা বিবিকে কল্পনা করা হতো।
ভাইরাস: ইতিহাসের শুরু থেকেই বহু প্রাণ হারিয়েছে ভাইরাস তথা অনুজীবের শিকার হয়ে।রোগ সৃষ্টি কারী এই ভাইরাস সম্পর্কে মানুষ জানতে শুরু করেছে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে। কয়েক শ বছর আগেও এই ভাইরাস তথা অণুজীব কে মৃত্যুর কারন হিসেবে কল্পনা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাহলে ভাইরাস কি?
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ। ভাইরাস হচ্ছে একটি অতি ক্ষুদ্র অণুজীব যার অর্থ হচ্ছে বিষ।ইহা এক প্রকার অতি ক্ষুদ্রাকার জৈবকণা বা অণুজীব যারা জীবিত কোষের ভেতরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। ভাইরাস অতি অণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয়।ভাইরাসকে জীবানু না বলে কখনো বস্তু বলা হয়।কারন জীবদেহ ডিএন এ ,আরএনএ ও নিউক্লিক এসিড দিয়ে গঠিত। ভাইরাস কে জীব হিসেবে বিবেচনা করা হবে কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে।
মহামারী ভাইরাসের ইতিহাস: মহামারী ভাইরাসের আক্রমণে কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।শত শত নগর সভ্যতা বিলুপ্ত হয়েছে।
বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতা মিসরীয় মমির গায়ে বসন্ত রোগের চিত্র পাওয়া গেছে।মিসরের ফেরাউনরা এক সময় বিশ্ব শাসন করতো ।ফেরাউনরা ধ্বংস হয়েছে গুটি বসন্ত নামক ভাইরাসের আক্রমণে।
টাইপাস মহামারীতে এথেন্সের জনসংখ্যার প্রায় দুই তৃতীয়াংশই মানুষ মারা যায়।
১৬৫-১৮০ খ্রিস্টাব্দে মহামারীতে মাত্র পনের বছরে রোমের জনসংখ্যা প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছিল।রোমে তখন বাতি জ্বালানোর মানুষ ছিল না।
২৫০খ্রিস্টাব্দে সাইপ্রিয়ানের প্লেগ মহামারী তে বিশ্ব বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে প্লেগে প্রায় দশ কোটি লোক মারা যায়। এ প্লেগ তখন মধ্যপ্রাচ্য , এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।এটাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মহামারী।
ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সারা বিশ্বের চল্লিশ শতাংশ মানুষ মারা যায় প্লেগ রোগে।ষোল শতকে মেক্সিকো তে আশি শতাংশ লোক মারা যায় প্লেগ রোগে। অনেক বিজ্ঞানীদের মতে জীবানুবাহী ভাইরাস প্লেগ এর সৃষ্টি হয়েছিল ইদুরের খাদ্য ও প্রসাব থেকে।
১৭২০ সালে ফ্রান্সে প্লেগ মার্সেই এর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল মহামারী। তখন এক লক্ষ মানুষ মৃত্যু বরন করেছিল। শুধু মার্সেই তেই মারা গিয়েছিল পঞ্চাশ হাজার লোক।
১৮২০ সালে এশিয়াটিক কলেরা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ সেনাদের মাধ্যমে। অনেক মানুষ মারা গিয়েছিল তখন।
১৯১৮-১৯২০ সালে স্পেনে দেখা দিয়েছিল স্প্যানিশ ফ্লু যাতে বহুলোক লোক মারা গিয়েছিল।
করোনা ভাইরাস: করোনা ভাইরাস প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৬০ সালের দিকে। করোনা একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ মুকুট বা ক্রাউন। ইলেকট্রনিক্স
মাইক্রোস্কোপের নীচে এ ভাইরাস কে দেখতে মুকুটের মতো অথবা সূর্যরশ্মির (সোলার করোনার) মত মনে হয় বলে এর নাম দেওয়া হয় করোনা ভাইরাস। নতুন এ ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় নভেল করোনা ভাইরাস।এই ভাইরাসটি পশু পাখি থেকে মিউটেশনের মাধ্যমে মানব দেহে প্রাদুর্ভাব ঘটায়।কারো মতে সাপ থেকে আবার কারো মতে বাদুর থেকে এ ভাইরাসটি ছড়ায়।
করোনা ভাইরাস নিজে বংশ বিস্তার করতে পারে না। জীবন্ত কোষে ঢুকে সে কোষের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
আবার কারো মতে করোনা ভাইরাস কোন নির্দিষ্ট ভাইরাস এর নাম নয়। এটা একটা ভাইরাস ফ্যামিলি কে নির্দেশ করে।এটি একটি এক সূত্র বিশিষ্ট আর এন এ(RNA) দিয়ে গঠিত। এবং এই আরএনএ ভাইরাসের মিউটেশন এর কারনে করোনা ভাইরাস প্রাণীদেহ থেকে মানবদেহে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। প্রাকৃতিক ভাবে ঘটা এই মিউটেশন এর কারনে ভাইরাস নিজেকে বদলে ফেলে।ফলে দেখা দেয় নতুন নতুন মহামারী। ২০০২-২০০৩ সালে করোনা ভাইরাস গোত্রের আরেক সদস্য সার্স (সিভিয়ার একুইট রেসপিটরি সিনড্রোম) বিশ্বের সতেরটি দেশে ৭৭৪ জন লোকের প্রাণহানির কারণ হয়েছিল।এই সার্স ভাইরাস ছড়িয়েছিল বাদুরের মাধ্যমে।২০১২ সালে এই এই গোত্রের আরেক টি ভাইরাস মার্স ( মিডল ইস্ট রেসপিটরি সিনড্রোম) মধ্যপ্রাচ্যে মহামারী সৃষ্টি করেছিল।মার্স ভাইরাস ছড়িয়েছিল উটের মাধ্যমে।
উহানের নভেল করোনা: ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনের উহান প্রদেশের একটি পাইকারি প্রাণী, সাপ , মাছ ও পাখির বাজারের কিছু দোকানী হটাৎ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এখানে যে ভাইরাস পাওয়া যায় চীনে এ নতুন ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় নভেল করোনা ভাইরাস।
কারো মতে সাপ থেকে আবার কারো মতে বাদুর থেকে এ ভাইরাস টি ছড়িয়েছে।জানা যায় নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এর সাথে জড়িত চীনের উহান প্রদেশের একটি সামুদ্রিক খাবারের পাইকারি বাজার। কিছু সামুদ্রিক প্রাণী থেকে সম্ভবত নভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে থাকতে পারে।ঐ বাজারে প্রাপ্ত জীবন্ত তিমি সাপ বাদুর খরগোশ এসব প্রাণী করোনা ভাইরাস এর উৎস হতে পারে বলে অনেকে ধারনা করেন। নভেল করোনা ভাইরাস এর আরেক নাম কোভিড-১৯ । করোনা ভাইরাস এর অনেক প্রজাতি। এর মধ্যে সাতটি প্রজাতি মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। প্রাথমিক ভাবে দেখা যায় চীনের উহান প্রদেশে যাতায়াত কারী লোকদের মাধ্যমে নভেল করোনা ভাইরাস বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে নভেল করোনা: বাংলাদেশে নভেল করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয় মার্চ মাসে। চীনের উহান প্রদেশে উৎপত্তি হওয়া নভেল করোনা ভাইরাস থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, ইটালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেপাল ভারত বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের দেশে সকল জেলায় এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ৭/৫/২০ ইং পর্যন্ত আমাদের দেশে মোট মৃত্যু দাঁড়ায় ১৯৯। বিশ্বে মোট মৃত্যু দাঁড়ায় ২,৬৩,০০০ জন। সারা বিশ্বে ২১০ টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে এ ভাইরাস।
চোখ , মুখ ও নাকের মাধ্যমে এটি শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। আবার কাটা বা ক্ষত চামড়ার মধ্য দিয়ে এর সংক্রমণ হতে পারে। হাঁচি কাশির মাধ্যমে প্রধানত এ রোগ ছড়ায়। এটা ফুসফুসের সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে দেখা দেয় সর্দি কাশি,পরে শ্বাসকষ্ট।, গলাব্যথা।যেহেতু এ রোগের কোন প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি তাই প্রতিরোধ ই একমাত্র ভরসা। ইদানিং আবার কোন উপসর্গ ছাড়াই করোনা পজেটিভ ধরা পড়ছে।এই ভাইরাস দিনে দিনে চরিত্র পাল্টাচ্ছে।
এখন লক্ষন হিসেবে দেখা যাচ্ছে বমি বমি ভাব , মাথা ব্যাথা , পাতলা পায়খানা। যতই দিন যাচ্ছে এ ভাইরাস নতুন নতুন লক্ষণ নিয়ে দেখা দিচ্ছে।অন্যান্য দেশের সাথে তার মিলিয়ে আমাদের দেশেও বিজ্ঞানী ও ডাক্তার গণ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম দিকে করোনা টেষ্টের কীটের স্বল্পতার কারণে রোগী সনাক্ত করতে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। এখন এ সমস্যা নেই। আমাদের দেশে বেসরকারি সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনা টেস্টের জন্য কীট আবিষ্কার করেছেন ডাঃ জাফর উল্লাহ র তত্ত্বাবধানে ডাঃ বিজন কুমার শীল এর নেতৃত্বে। এর কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। সফল হলে অবশ্যই এটা আমাদের জন্য ভালো খবর। এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে ৫-১৪ দিন সময় লেগে যায়। এখন অনেকের দেহে লক্ষণ ছাড়াই করোনা পজেটিভ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এটা কে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন এভাবে কারো দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকলে করোনা তাকে দূর্বল করতে পারে না।ফলে সেক্ষেত্রে কোন লক্ষণ প্রকাশ পায়না। যাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের কে এ ভাইরাস সহজে আক্রান্ত করে দুর্বল করে ফেলে। এ কারনেই বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস , হার্ট সমস্যা, হাইপ্রেশারের রোগী, কিডনি আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।আমাদের দেশে এ ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য কোয়ারেন্টিন , সামাজিক দূরত্ব,লক ডাউন, ব্যাক্তিগত সুরক্ষা পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। করোনা যুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনার ডাক্তার নার্স সেবা দিয়ে যাচ্ছন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন । প্রশাসন জনগণকে সচেতন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।অথচ আমরা জনগণ সামাজিক দূরত্ব পালনে অসচেতনতা পরিচয় দিয়ে যাচ্ছি। খেয়াল খুশি মত চলা ফেরা করার চেষ্টা করে অনেকেই। যেহেতু প্রতিরোধ ই বড় ভরসা এ রোগের সংক্রমণ আছে এমন লোকের সংস্পর্শে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে আমাদের কে। অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে অবশ্যই।বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক পড়ে যেতে হবে , সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বাসায় ফিরে মাস্ক ধুয়ে ফেলতে হবে। ঘন্টা খানেক পর সাবান দিয়ে হাত ধৌত করতে হবে বিশ সেকেন্ড ধরে। আমাদের দেশের ডাক্তার গন জ্বরের ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল , ভিটামিন সি জাতীয় খাবার ও সাপোরর্টিভ ঔষধের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। করোনা ভাইরাস যদি পাকস্থলী তে চলে যায় তাহলে মানুষ কে আক্রান্ত করতে পারেনা। কিন্তু এটা যদি শ্বাস নালীতে প্রবেশ করে তখন মানুষ কে আক্রান্ত করে।
করোনা টেস্ট: আমাদের দেশে করোনা সনাক্তকরণের জন্য নাসারন্ধ্র বা মুখ থেকে শ্লেশা নিয়ে করোনা সনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক গণ। রক্তের প্লাজমা পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা টেস্ট উন্নত বিশ্বে শুরু হলেও আমাদের দেশে এখনো চালু হয়নি এ পদ্ধতি।
ইদানিং আমেরিকা জিন এলার্ট সিস্টেম এর মাধ্যমে করোনা টেস্ট এর একটি পদ্ধতি বের করেছেন।
আমাদের দেশে চিকিৎসক গণ এ রোগের সংক্রমণ থেকে বাচার জন্য লবন মিশানো গরম জলের গার্গলের পরামর্শ দিচ্ছেন। যেহেতু এ জীবানু গলায় তিন চারদিন থাকে ,তারপর ফুসফুসে আক্রমন করে ।তাই লবন মেশানো গরম পানিতে গার্গল করলে গলা থেকে এ জীবাণু ফুসফুসে যেতে পারে না। এছাড়া ঘন ঘন আদা বা লেবু মেশানো চা খেলে এক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়। কাঁচা সবজি বা সালাদ পরিহার করতে হবে।মাছ মাংস ডিম ভালভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। বাইরে থেকে এসে মাস্ক,গ্লাভস ও জামাকাপড় ধুয়ে ফেলতে হবে ‌। ফল অবশ্যই ভালো ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে খেতে হবে।ভারি চামরার ফল হলে সাবান দিয়ে ধুয়ে খেতে হবে।
মহামারী প্রতিরোধের শেষ অস্ত্র হিসাবে সরকার লক ডাউন ঘোষণা করেছে। অথচ অনেকেই এটা মানতে চাচ্ছে না। নিজেদের খেয়ালখুশি মত নানা অজুহাতে বাইরে যাচ্ছে। অবশ্য খেটে খাওয়া মানুষ পেটের দায়ে বাইরে যেতে অনেক ক্ষেত্রে ই বাধ্য হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকার সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বিত্তশালীদের আরো বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাহায্যের
হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
যেহেতু এর কোন প্রতিষেধক নেই তাই প্রতিরোধ ই সর্বোত্তম পন্থা। এজন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা। ডাক্তার নার্স দের চিকিৎসা, বিজ্ঞানীদের গবেষণা, প্রশাসনের সহযোগিতা, পুলিশ ও সৈনিক ভাইদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সচেতনতা কার্যক্রম,সংবাদ কর্মীদের সঠিক তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ জনগন কে সচেতন হতে হবে, সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকতে হবে , স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।তবেই আমরা মহামারী নোভেল করোনার ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব। সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে এ রোগ মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।
লেখক পরিচিতি: কবি ও গীতিকার। পরিদর্শক, জেলা সমবায় কার্যালয়, সুনামগঞ্জ।