মহিষখলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ শ্যাওলা জমে সৌন্দর্য বিলীন

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলায় প্রায় সাত বছর আগে নির্মিত হয় একটি নান্দনিক মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ। এটি নির্মাণের পর থেকেই প্রতি বছর ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের আগে কোনো রকমে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে পুষ্পস্তবক প্রদান করা হয়। এরপর আর স্মৃতিসৌধের খোঁজ খবর রাখে না প্রশাসন। ফলে অযতেœ অবহেলায় পড়ে থেকে স্মৃতিসৌধটি। ময়লা আবর্জনায় নষ্ট হয় এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য। স্থানীয় লোকজন কখনও কখনও স্মৃতিসৌধের ওপর কাপড়, গোবর দিয়ে তৈরি বিশেষ জ্বালানী ও ধান শুকানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিস্কার না করায় স্মৃতিসৌধটিতে শ্যাওলা জমে রয়েছে। ফলে এটিকে দেখতে জরাজীর্ণ মনে হয়। স্মৃতিসৌধটি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মহিষখলা বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) ও সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন স্মৃতিসৌধের করুণ দশা নিয়ে দু:খ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। বছরে দুটি জাতীয় দিবসে শুধুমাত্র স্মৃতিসৌধটি পরিস্কার করা হয়। সারা বছর অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকে। স্মৃতিসৌধটি সারা বছর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত বোধ করবো।’
মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেনের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজ থেকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধটি যথাযথ রক্ষাবেক্ষণ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিলাম। খুব দ্রুত স্মৃতিসৌধটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে দর্শনীয় করে তোলা হবে।’
২০১২ সালে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মহিষখলায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়। আলম বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে।