মাউতির বাঁধ না কাটায় ছায়ার হাওরে চাষাবাদ হচ্ছে না

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাই-শাল্লা এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বৃহৎ ছায়ার হাওরে পানি নামছে না মাউতির বাঁধের কারণে। হাওরপাড়ের কৃষকরা বলেছেন,‘মাউতি বিলের ইজারাদার পানি না ছাড়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। অপরদিকে, ইজারাদার পক্ষ বলছে পানি ছাড়লে তাঁদেরও সুবিধা, পানি আটকে রাখার প্রশ্নই ওঠে না।’
ছায়ার হাওরপাড়ের আঙ্গাউড়া গ্রামের একাধিক কৃষক বলেছেন,‘ছায়ার হাওরে জমি আছে ১৫ হাজার হেক্টরের মতো, হাওরের টান এলাকার ৬-৭ হাজার হেক্টরের পানি ধান রোয়া’র উপযোগী হয়েছে। নিচু এলাকার পানি নামছে না সুলতানপুর-ঘুঙ্গিয়ারগাঁওয়ের মধ্যে থাকা মাউতির বাঁধের জন্য। বাঁধ ৬-৭ ইঞ্চি কেটে দেওয়া হয়েছে। ২ ফুট গভীর করে কেটে দিলে হাওরে পানি থাকবে না। মরা সুরমার নদীর পানিও কমেছে। এখন বাঁধ কাটলেই হাওরের পানি মরা সুরমা নদী দিয়ে ৩ দিনে নেমে যাবে।’
আঙ্গাউড়ার কৃষক লালন মোহন দাস বললেন,‘৮ কেয়ার (২ একর ২ কেয়ার) জমির মধ্যে ৪ কেয়ার রোয়া দিছি, আরও দেড় কেয়ার ১-২ দিনের মধ্যে রোয়া দিমু  (দেবো), বাকী আড়াই কেয়ার মাউতির বাঁধ কাই্ট্টা না দিলে রোয়া যাইতো নায়।’
আঙ্গাউড়ার সুশীল দাস, অবনী দাসসহ একাধিক কৃষক জানালেন, মাউতির বাঁধের উচ্চতা কমপক্ষে ৮ ফুট, কেটে        
দেওয়া হয়েছে ৬-৭ ইঞ্চি। আরও ২ ফুট গভীর করে কেটে দিলে হাওর রোয়া দেবার উপযোগী হয়ে যাবে। কিন্তু মাউতি বিলের ইজারাদার বাহারা সমবায় সমিতির সঙ্গে যুবলীগ নেতা তকবির হোসেন শরীক থাকায় কৃষকরা বাঁধ কাটার সাহস পাচ্ছে না।
বাহারা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস অবশ্য বলেছেন,‘মাউতির বাঁধ কেটে দিলে পানি নামবে এটা সত্য, কিন্তু সরকারী বাঁধ কাটতে যাবে কে, আমরা আটকে রেখেছি এটি ঠিক নয়, পানি নামলে আমাদের জন্যও ভাল হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাইলে ৫০ জন মানুষ ২ ঘণ্টায় বাঁধ কেটে দিতে পারেন।’ এই জলমহালে শাল্লা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক তকবির হোসেন শরীক নয় দাবি করে তিনি বলেন,‘তকবির হোসেনের বাড়ীর পাশে জলমহালটির অবস্থান হওয়ায় তাঁর ভাই-ভাতিজাকে জলমহাল পাহাড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক তকবির হোসেন এই বিলের শরিক নয় দাবী করে বলেন,‘বিলের ইজারাদার বাহাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিও পানি আটকায় নি। ইজারাদাররাও চায় পানি কমাতে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘শাল্লায় শনিবার সন্ধ্যায় খবর নিয়ে জেনেছি, মরা সুরমায় পানি কমেছে, এখন মাউতি বিলের মুখের বাঁধ কেটে দিলে পানি নামবে, আমরা দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’