মাছ চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার
পাহাড়ি ঢলের প্রবল বেগে পুকুরেরপাড় ও বেরিকেট ভেঙে মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাছ চাষীরা। শুক্রবার মধ্যরাতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি উপচে উঠে পুকুরের পাড় ও বেরিকেট ভেঙে যায়। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পোনা বেরিয়ে পড়ে।
জেলার বিভিন্ন স্থানের ২০,৭৬৯টি পুকুরের মধ্যে বেশিরভাগ পুকুরের মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য জেলা মৎস্য কর্মকর্তার। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মাছ চাষীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষীদের তালিকা সংগ্রহ করে দ্রুত পাঠাতে তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
ভয়াবহ বন্যায় সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানের পুকুরের মাছ চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি উপচে উঠে পুকুরের পাড় ও বেরিকেট ভেঙে যায়। এতে পুকুরের চাষকৃত বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা বেরিয়ে পড়ে। নিমিষেই মাছ শূন্য হয়ে পড়ে পুকুর। উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সাড়ে ৪শত জন মাছ চাষীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামের ‘ইব্রাহীমপুর মর্ডান এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড’র মালিক মুসলিম উদ্দিনের ৯টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুকুরের ভূমির পরিমাণে ছিল ৫ কেয়ার করে ৩টি, সাড়ে ৩ কেয়ারের ১টি, ৩ কেয়ার করে ৩টি, ২ কেয়ার করে ২টি। এসব পুকুরে রুই, কাতলা, কাইলা, পাঙাস, তেলাপিয়া, ঘাসকার্প, সিং, ব্রিগেট, মিরকা, চিড়াই ও সিলভার কার্প জাতের প্রায় ৩ লাখ পোনা ও বড় আকারের মাছ বেরিয়ে যায়। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ইব্রাহীমপুর মর্ডান এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড’র মালিক মুসলিম উদ্দিন জানান, শুক্রবার মধ্যরাতের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সকল পুকুরের পাড় ভেঙে ও বেরিকেট তলিয়ে যাওয়ায় পুকুরের সকল প্রজাতির ছোট বড় সকল মাছ বেরিয়ে পড়ে। এতে আমার প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার কোটি টাকারও বেশি ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
একই গ্রামের শিহাব মিয়ার রয়েছে ২ কেয়ার করে ২টি পুকুর। শুক্রবার মধ্যরাতের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পানি উপচে উঠে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও বড় মাছ বেরিয়ে যায়। এতে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পানি উপচে উঠে একই গ্রামের মিজান মিয়ার ৩ কেয়ার করে ৩টি পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বেরিয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
কবির মিয়ার রয়েছে ২ কেয়ার এবং ৩ কেয়ার করে ৫টি পুকুর। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুকুরের পানি উপচে উঠে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও মাছ বেরিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সাইফুল মিয়ার রয়েছে ৩ কেয়ার পরিমাণের ১টি পুকুর। বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রাণী দাস বলেন, সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরে মাছ চাষীদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২/১ দিনে মধ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ পুকুরে চাষীদের তথ্য সংগ্রহ করার কাজ চলছে। দ্রুত আমার কাছে তালিকা চলে আসবে।