মাছ শিকারে কীটনাশক ব্যবহারের হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সুরমা নদীতে মাছ শিকারে কীটনাশকের ব্যবহার হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় অসাধু মাছ শিকারী এই কীটনাশক ব্যবহার করে আসছেন। কীটনাশক ব্যবহারে মাছ শিকার বন্ধের দাবি স্থানীয় মানুষের।
প্রকৃত মৎস্যজীবী অনেকেই জানান, প্রতিদিন কোনো না কোনো স্থানে কীটনাশক ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হয়। নদীর কিনারে উজানে অন্তত: ৩ শত গজ দূরে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। কিছুক্ষণ পর নদীর ভাটিতে কীটনাশকের দুর্গন্ধে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডাঙ্গায় লাফিয়ে উঠে। তবে বেশির ভাগ গলদা চিংড়ি ধরা পড়ে। রাতে যে কোনো সময় অথবা সকালে কীটনাশক ব্যবহার করে মাছ শিকার হয় বেশি। কীটনাশক ব্যবহারের মাছ বাজারে ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেরি দিয়ে বিক্রি করেন যারা তাদের মধ্যেই কতিপয় ব্যক্তি কীটনাশক ব্যবহার করে রাতে মাছ শিকার করেন।
সদর উপজেলার পূর্ব ইব্রাহীমপুর, উকিলপাড়া, ষোলঘর, হালুয়ারঘাট, ধারারগাঁও, গোদারগাঁও, বল্লবপুর, ব্রাহ্মণগাঁও, আমবাড়ি, হরিনাপার্টী, পুরান লক্ষণশ্রী, টুকেরবাজার, পৈন্দা, জয়নগর, জামালগঞ্জ উপজেলার চানপুর, লক্ষীপুর প্রভৃতি এলাকায় কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ শিকার করেন নদীর তীরবর্র্তী বাসিন্দা অসাধু মৎস্যজীবীরা।
হবতপুর গ্রামের প্রকৃত মৎস্যজীবী আপ্তর আলী বলেন, ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন কীটনাশক দিয়ে মাছ শিকার করেন। তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি আমাদের।
আরপিননগরের প্রকৃত মৎস্যজীবী সুবেল মিয়া বলেন, যারা দেশ ও জাতির শত্রু তারাই কীটনাশক দিয়ে মাছ শিকার করেন। এদের শাস্তি হওয়া উচিৎ।
রহমতপুর গ্রামের প্রকৃত মৎস্যজীবী তৈমুল হক বলেন, সুরমা নদীর যে এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, ওই এলাকায় নদীর পানি ব্যবহার করা যায় না। অন্তত ২-৩ দিন। বিষাক্ত এই গরু-ছাগলে পান করলেও মারাত্মক ক্ষতি হয়।
পুরান লক্ষণশ্রী গ্রামের প্রকৃত মৎস্যজীবী ভূষণ বর্মণ বলেন, প্রত্যেক মৎস্যজীবী গ্রামে রয়েছে একাধিক ব্যক্তি, তাদের পেশা কীটনাশক ব্যবহারে মাছ শিকার।
রামনগর গ্রামের প্রকৃত মৎস্যজীবী সাচ্চু মিয়া বলেন, শুধূ মৎস্যজীবী নন, অমৎস্যজীবীরাও কীটনাশক ব্যবহারে মাছ শিকার করে আসছেন।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. আলাউর রহমান বলেন, যারা মাছ বিক্রি করেন, তাদের মধ্যে এক শ্রেণীর মানুষ কীটনাশক ব্যবহার করে মাছ শিকার করেন এবং বিক্রিও করেন। এসব লোককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল ম-ল বলেন, যারা মাছ শিকারে কীটনাশক ব্যবহার করে, তাদেরকে খুঁজে বের করে মৎস্য আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। নদী বা খাল-বিলে যাতে কীটনাশক ব্যবহার না হয়, সেজন্য বিভিন্ন স্থানে আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।