মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- পানীয় জল ও টয়লেট সমস্যায় জর্জরিত

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
প্রথম দেখায় বুঝা যাবে না এখানে একটি টিউবওয়েল আছে। একটু ভাল করে দেখলে কচু গাছের ঝোপের আড়ালে টিউবওয়েলের অংশ বিশেষ চোখে পড়বে। তবে সেই টিউবওয়েলের নেই ওপরের অংশ। পানি না ওঠায় দীর্ঘ বছর ধরে ব্যবহার হয়না এই টিউবওয়েল। তবে পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে গেল বছর একটি ৯০ ফুটের টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে অপরপাশে। যেটিতে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন। যা স্বাস্থ্যসম্মত নয় জেনেও বাধ্য হয়ে পান করতে হচ্ছে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে। পানীয় জলের সমস্যা ছাড়াও শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র সংকট, ব্যবহার অনুপযোগী টয়লেটের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত ৩শ ৪৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ১ জন শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে রয়েছেন। গত শনিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয়টিতে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসে ৫২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। বেঞ্চ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদেরকে গাদাগাদি করে বসতে হয়েছে। একেকটি বেঞ্চে তিন থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী বসেছে। যদিও ছোট একটি বেঞ্চে দুইজন শিক্ষার্থী ও বড় বেঞ্চে তিনজন শিক্ষার্থী বসার কথা রয়েছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি টয়লেট রয়েছে যা ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ের বাইরে অন্যত্র যেতে হয়।
শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে এলজিইডির পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে দুটি শ্রেণি কক্ষ রয়েছে। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছর যেতে না যেতেই ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে এখন। শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাস চলাকালে বৃষ্টি হলে তাদের মাথায় পানি পড়ে। এ সময় তাদের জামা কাপড় ভিজে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ ভবন নির্মাণের সময় নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করার ফলে কয়েক বছরেই এ ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি হলে সিঁড়ি বেয়ে পানি পড়ে। এই ভবন নির্মাণের সময় তদারকীর দায়িত্বে ছিলেন, উপজেলা এলজিইডির তৎকালীন প্রকৌশলী নূরুল আমিন চৌধুরী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। নূরুল আমিন অন্যত্র বদলী হয়েছেন এবং জাহাঙ্গীর আলম এখানেই কর্মরত রয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলম কোনো বক্তব্য দিতে রাজী হননি। তিনি উপজেলা এলজিইডির বর্তমান প্রকৌশলী আবদুল ওয়াদুদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু আবদুল ওয়াদুদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গত মাসে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছি। শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র সংকট, পানীয় জলের সমস্যা ও টয়লেটের সমস্যার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি সোমবার বিদ্যালয় পরিদর্শন করে গেছেন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরেও যোগাযোগ করেছি।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রব বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ের পানীয় জল ও স্যানিটেশন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। এ বিদ্যালয়সহ উপজেলার যে সকল বিদ্যালয়ে সমস্যা রয়েছে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগকে জানানো হবে।’