মাথায় হাত কৃষকের

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা ব্রি-২৮ ধান চাষ করে এবার লোকসানে পড়েছেন। উচ্চ ফলনশীল ও আগাম জাতের এ ধান উপজেলার কৃষকদের জন্য সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ অবশ্য ব্রি-২৮ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঠিক কোন পরিসংখ্যান দিতে না পারলেও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে।
উপজেলার নলুয়া, মইয়া ও পিংলার হাওরে ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অকাল বন্যার কারণে জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকরা আগাম ও উচ্চফলনশীল হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে ব্রি-২৮ ধান চাষ করে আগাম ভাল ফসল উত্তোলন করেছেন। গত বছর হাওরের কিছু এলাকায় ব্রি-২৮ ধান ব্লাস্টরোগে আক্রান্ত হয়। এবার ব্রি-২৮ ধানে মড়ক দেখা দেয়ায় কৃষকরা কাক্সিক্ষত ফলন পাচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হাওরে সোনালী ফসলে ভরপুর। কিছু কিছু জমির ধান কৃষি শ্রমিকরা কাটছেন আবার কেউ বা নিজের জমির ফসল কবে কাটতে পারবেন তা দেখছেন। মইয়ার হাওরে কথা হয় উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের কৃষক বকুল গোপ এর সঙ্গে। তিনি নিজের জমিতে ব্রি-২৮ ধানের ফলন দেখে হতাশা ব্যক্ত করে জানান, এবার পাঁচ কেদার জমি আবাদ করেছি তার মধ্যে দুই কেদার ছিল ব্রি-২৮ ধান। এই দুই কেদার জমিতে ফলন নেই বললেই চলে। সব ধানে চালের বদলে ছোঁচা দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকরা ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন না। তিনি জানান, দুই কেদার জমিতে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। ধান পাওয়া যাবে না পাঁচ মণ। একই গ্রামের কৃষক রজত গোপ জানান, ব্রি-২৮ জাতের চার কেদার জমিতে তিনি কাক্সিক্ষত ফলন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক কষ্টে লাগানো চারায় ধান না থাকায় বোরো আবাদের ক্ষতি পোষানো সম্ভব হবে না।
নলুয়ার হাওরের কৃষক সফিক মিয়া জানান, গতকাল তিনি ব্রি-২৮ সাড়ে চার কেদার জমি মাড়াই দিয়ে ধান পেয়েছেন ১১ মণ। গত বছর একই জমি থেকে ধান পেয়েছিলেন ৬০ মণ।
তার ধারনা ব্রি-২৮ ধানের বীজে কোন ধরনের ত্রুটি থাকায় এবার ব্রি-২৮ ধানে ছোঁচা বেশী।
ভূরাখালি গ্রামের কৃষক কয়েছ মিয়া বলেন, ব্রি-২৮ ধান উচ্চফলনশীল ও আগাম জাতের হওয়ায় জগন্নাথপুরের হাওর অঞ্চলে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এ ধান। এবারে এ ধানে ফলন বিপর্যয় হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। কয়েছসহ নলুয়ার হাওরের আরো কয়েকজন কৃষক জানান, ব্রি-২৮ ধান চৈত্রমাসের মাঝামাঝি সময়ে পাকে এবং কেদার প্রতি ১৫ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়া যায়। তাই অগ্রহায়ণ মাসের শেষদিকে কিংবা পৌষমাসে এ ধান রোপন করা হয়।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের নেতা লুৎফুর রহমান বলেন, কৃষকরা অনেক কষ্ট ও অর্থ ব্যয় করে ধান রোপন করে। প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফসল ঘরে তুলেন কৃষকরা। কাক্সিক্ষত ফলন ও ধানের নায্য দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন কৃষকরা। তিনি বলেন, ব্রি-২৮ ধান জগন্নাথপুরের কৃষকদেরকে হতাশ করে দিয়েছে। বিষয়টি কৃষি বিভাগের তদন্ত করা দরকার।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০৭২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে তারমধ্য ৩৫০০ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ আবাদ করা হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন,ঠান্ডাজনিত কারণ ও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ব্রি-২৮ ধান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছর ব্রি-২৮ ধানে ব্লাস্টরোগ দেখা দেয়ায় এবার ব্রি-২৮ তুলনামুলক অনেক কম আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ব্রি-২৮ এ অনেক কৃষক ভাল ফলন পেয়েছেন। আবার অনেকে যারা অগ্রহায়ণ মাসে ব্রি-২৮ রোপন করেছেন তারা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের প্রকৃতির কথা বিবেচনা করে নতুন জাতের ধান আবাদের গবেষণা চলছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম বলেন, ব্রি-২৮ ধান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে বলা হয়েছে।