মাদক বিরোধী অভিযানে সাধারণ প্রত্যাশা

মঙ্গলবার একাত্তর টিভি’র বিকাল পাঁচটার সংবাদে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে ক্রসফায়ারে মোট ২৯ মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে র‌্যাব, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির মাদক বিরোধী অভিযানের ব্যাপকতার প্রমাণ মিলে। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই এই অভিযানে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। এর রেশ পড়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়ও। তবে অন্যান্য জেলাগুলোর তুলনায় সুনামগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযান বেশ শান্তশিষ্টই বলা যায়। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ধর্মপাশা ও তাহিরপুরে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং মধ্যনগরে এক গাঁজা ব্যবসায়ীকে আটকের সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই ধরনের আটকাভিযান জেলা জুরে গত কয়েকদিন যাবৎ বেশ ঘটে চলেছে। স্বাভাবিক সময়ে জেলায় মাদক বিরোধী যে ধরনের সংবাদ পাওয়া যেত এই বিশেষ অভিযান কালে এর চাইতে বেশি সফলতা অর্জিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। অথচ অবস্থা এমন না যে, জেলায় মাদকের প্রকোপ নেই। বরং বিশাল সীমান্তবেষ্টিত জেলায় মাদকের যথেষ্ট প্রকোপ রয়েছে বলেই সকলে মনে করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিপদজনক মাত্রায় ইয়াবার ব্যবহার জেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়ে গেছে বলে প্রায়শই শোনা যায়। কম বয়সী যুবকরা মদ, ফেনসিডিল ছেড়ে এখন মরণনেশা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। যুব সমাজকে এই সর্বনাশা পতন থেকে রক্ষা করতে সুনামগঞ্জ জেলায় চলমান মাদক বিরোধী অভিযান সামনের দিনগুলোতে আরও ব্যাপকতা পাবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
মাদকবিরোধী অভিযান বা অপরাধ দমনের অপরাপর ক্ষেত্রে ক্রসফায়ারে অপরাধীদের মৃত্যু নিয়ে আমাদের দেশে বরাবরই দুই ধরনের মতামতের দেখা মিলে। ব্যাপক সাধারণ মানুষ এই ধরনের কঠোর দমন অভিযানকে স্বাগত জানালেও সুশীল ও চিন্তক সমাজসহ মানবাধিকার কর্মীরা এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের ঘটনাগুলোকে বরাবরই কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে আসছেন। তাঁরা প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই যাবতীয় অপরাধ কর্মকা- দমনের উপর জোর দিয়ে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই ধরনের দীর্ঘসূত্রী ও জটিল আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে সমাজ ও জাতি বিধ্বংসী অপরাধীদের বিচারের শেষ ধাপ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমরা খুব কমই দেখি। অপরাধ প্রমাণের জন্য সবল অপরাধীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দিতে কাউকে পাওয়া যায় না। এরকম বাস্তবতায় মাদক বিরোধী চলমান অভিযান কৌশলের বাইরে আর কোন উপায়ে বিধ্বংসী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে নেই বললেই চলে। অথচ সভ্য সমাজের অধিবাসী হিসাবে আমরা কখনও কোন ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-কে সমর্থন করতে পারি না। এরকম এক অদ্ভূত বাস্তবতার মাঝে আসলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সঠিক পন্থা কোনটি তা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটার কোন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
তবে সব কথার বড় কথা হলো আমরা আমাদের প্রজন্মকে ভয়াল মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে চাই। এই দায়িত্ব দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর। তাঁরা দেশের আইন-কানুন ভাল জানেন। সবদিক বিবেচনা করে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই এই সর্বনাশা মাদকের হাত থেকে তাঁরা আমাদের সন্তানদের রক্ষা করুন এই আমাদের প্রত্যাশা। শুধুমাত্র মাদকের মধ্য বা নি¤œ পর্যায়ের অপরাধীরা নয় বরং উচ্চ পর্যায়ের রাঘব-বোয়াল, যাদেরকে খুব ক্ষমতাশালী মনে করা হয়, তারাও অবিলম্বে চলমান মাদকবিরোধী জালে আটকা পড়বেন বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই।