মাদক মামলায় ফাঁসানো বাবুল বিশ্বাসের কারাগারে মৃত্যু- দ. সুনামগঞ্জে ব্যাপক প্রতিবাদ

দ. সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে চা স্টল ব্যবসায়ী বাবুল বিশ্বাস (৩৫) কে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধের পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে জয়কলস পয়েন্টে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তারা বাবুল বিশ্বাসকে গ্রেফতারের সাথে জড়িত দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অসহায় পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। কর্মসূচিতে এলাকার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তহুর আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা, উপজেলা বিএনপি নেতা মহিম উদ্দিন, বাবুল বিশ্বাসের স্বজন অনিল বিশ্বাস, অধির বিশ্বাস, তার স্ত্রী দিপালী বিশ্বাস, অঞ্জলী বিশ্বাস ও ছেলে পুল্টন বিশ্বাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জয়কলস গ্রামের দরিদ্র চা স্টল ব্যবসায়ী বাবুল বিশ্বাসকে গত ২৭ মে রাত ৩টার দিকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ। কিন্তু অন্য এলাকায় মদ উদ্ধারের ঘটনায় আসামী দেখিয়ে পরদিন ২৮ মে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। বাবুলকে রাতে গ্রেফতারের পর থানায় নির্যাতন করা হয়েছে। অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার পরিবারকে সহযোগিতার দাবি জানান।
নিহতের ন্ত্রী সন্তানরা কান্নাজগিত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন,‘ মাদক অভিযানের নামে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এসআই জিয়াউর রহমান বিনা অপরাধে বাবুল বিশ্বাসকে ধরে থানায় নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং বাবুলের স্ত্রীর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। থানায় গিয়ে এসআই জিয়াউর রহমানের কাছে ৫ হাজার টাকা দিয়ে আসেন তার স্ত্রী। তাদের দাবি জিয়াউর রহমানের নির্যাতনের কারণে কারাগারে বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে।
তাই অবিলম্বে জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুলিশ সুপারের নিকট জোর দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অভিযুক্ত এসআই জিয়াউর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘আমি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাবুল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছি।’
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘বাবুল বিশ্বাস মারা যাওয়ার তিন দিন গত হওয়ার পরও তার আত্মীয় স্বজনরা তো কোন মামলা দেয় নি। যারা মানববন্ধনে এসেছে এর মধ্যে কিছু লোকজন আছেন মাদক সেবনকারী। তাদের ইন্ধনেই মানববন্ধনটি হয়েছে। যদি থানার এসআই জিয়াউর রহমান দোষীই হতেন তাহলে কোর্ট এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিভাবে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রদান করেন ?
উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার এস. আই জিয়াউর রহমান গত ২৭ মে রাতে জয়কলস গ্রামের নিরীহ চা স্টল ব্যবসায়ী বাবুল বিশ্বাসকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পর দিন ২৮ মে তাকে মাদক মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৩০ মে রাতে কারাগারে তার মৃত্যু হয়।