মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদ্বয় কী শিক্ষা দিচ্ছেন?

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত প্রধান সংবাদ থেকে জানা যায়, জেলার ধর্মপাশা ও শাল্লা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুইজন মাসের অধিকাংশ সময়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। শনিবার থেকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই সময়েও কর্মস্থলে ছিলেন না ধর্মপাশার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ধর্মপাশার কর্মকর্তা গত চার বছর যাবৎ এই উপজেলায় কর্মরত আছেন। পক্ষান্তরে শাল্লার কর্মকর্তা মাত্র ছয় মাস আগে এই উপজেলায় বদলি হয়ে এসেছেন। শাল্লার এই শিক্ষা কর্মকর্তা শুধু কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন তাই না, কথায় কথায় তিনি নাকি নোয়াখালীর এক বড় আওয়ামী লীগ নেতার নাম করে নিজের দাপট দেখিয়ে থাকেন। দুই উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ধর্মপাশায় দাপ্তরিক কাজ সারেন একাডেমিক সুপারভাইজার আর শাল্লায় কর্মকর্তার পক্ষে অফিস খোলে বসেন একজন অফিস সহায়ক। এই দুই সরকারি কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষও তাদেরকে কর্মস্থলে অবস্থান করতে বাধ্য করতে পারছেন না। গণপ্রশাসনে এই ধরনের অবস্থা একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত।
সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় শাস্তিযোগ্য অপরাধরূপে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু কথিত দুই কর্মকর্তার লাগাতার অনুপস্থিতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই কারণে কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়নি। জেলা শিক্ষা অফিসার তাদেরকে কয়েকবার শোকজ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অসহায়ত্বও ফুটে উঠেছে গণমাধ্যমে দেয়া তাঁর বক্তব্যে। এই কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় তাঁকে দোষারোপ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দুই উপজেলা প্রধানের এমন আচরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা প্রশাসনে। এখন প্রশ্ন তোলা যায়, এই দুই কর্মকর্তাকে নিয়মিত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কি শিক্ষার বারটা বাজানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে?
হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন দপ্তরের জনবলের হতাশাজনক চিত্র আমাদের সকলের জানা। এই জেলায় প্রায় সকল দপ্তরেরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য পড়ে থাকে বছরের পর বছর ধরে। অন্যদিকে এই জেলায় শাস্তিমূলক পদায়নের একটি ধারা সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে। অথচ সুনামগঞ্জকে শাস্তিযোগ্য জেলা বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। শাল্লার কথিত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও নাতি শাস্তিমূলক বদলি পেয়ে এখানে এসেছেন। একে তো পদ শূন্য, উপরন্তু যারা এখানে পদায়িত হন তাদের মধ্যে যদি শাস্তিযোগ্য কেউ থাকেন তাহলে এই জেলার সরকাারি কর্মকা- পরিচালনায় যে বেহাল অবস্থা তৈরি হবে তা বলাই বাহুল্য। বস্তুত সুনামগঞ্জ জেলাটি এরকম বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এই অবস্থার অবসানকল্পে গণমাধ্যম অনবরত লেখালেখি করলেও অবস্থার তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না।
ধর্মপাশা ও শাল্লার অনুপস্থিত থাকার অভ্যাসগ্রস্ত দুই কর্মকর্তার বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় তাদেরকে কর্মস্থলে অবস্থান করতে বাধ্য করতে হবে নচেৎ এই ধরনের ‘গুণধর’ কর্মকর্তাগণকে বিদায় করে দিতে হবে। সরকারি টাকা দিয়ে বাড়িতে বসিয়ে তাদের জামাই আদর করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করব শিক্ষা প্রশাসন দ্রুত এই কর্মকর্তাদ্বয়ের ব্যাপারে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। শিক্ষা বিভাগ হলো বর্তমান প্রজন্মকে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার উপযুক্ত জায়গা। নৈতিকতা শিক্ষার এমন জায়গায় যদি দুই দপ্তর প্রধান মাসকে মাস কর্মস্থলে না এসে বেতন পাওয়ার কেরামতি দেখাতে পারেন তাহলে সেই শিক্ষা কোন্ ধরনের? শিক্ষা বিভাগ থেকে আমরা এমন নেতিবাচক শিক্ষা পেতে চাই না।