মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা

বিশেষ প্রতিনিধি
আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ২৩৪ কর্মচারী ১১ মাস হয় বেতন পায়নি। করোনাকালে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এরা। আদৌ বেতন হবে কী-না এই নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে তাদের। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীলরা বলেছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কার্যকাল নবায়ন করে অর্থ বরাদ্দের জন্য ঈদের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে কার্যকাল নবায়ন হবে এবং বেতন পাবে তারা।
আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগে আয়া, বাবুর্চি, মালি, অফিস সহায়কসহ নানা পদে ২৩৪ জন কর্মচারী নিয়োগ করে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘অনেস্ট সিকিউরিটি সার্ভিস’। নিয়োগকালে দেওয়া চিঠিতে জুন’২০১৯ পর্যন্ত চাকরি’র মেয়াদ উল্লেখ করা হয়। বেতনও দুই মাসেরই পান এই ২৩৪ কর্মচারী। পরবর্তী সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অনেস্ট সিকিউরিটি সার্ভিসের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে এই কর্মচারীদের কাজে থাকার কথা জানিয়ে বলা হয়, তাদের কার্যকাল নবায়ন হবে এবং বেতন হবে। তারা যেন স্ব স্ব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে।
অনেস্ট সিকিউরিটি সার্ভিসের নির্দেশ মোতাবেক ২৩৪ জনের বেশির ভাগেই কাজে থেকেছে। এই করোনাকালেও অনেকে কাজ করছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অনেস্ট সিকিউরিটি সার্ভিসের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম এখনো কাজ করছেন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে।
আমিরুল ইসলাম বললেন, দুই মাসের নিয়োগ দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমাদের কাজে নিলেও আমাদেরকে কর্মক্ষেত্র থেকে প্রত্যাহার করেনি তারা। বরঞ্চ ওখানে কাজ চালিয়ে যাবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে একই সময়ে নিয়োগ পেয়ে সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালী’র তুহিন মিয়াও কাজ করছেন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে। তুহিন মিয়ার দাবি ২ মাস কাজ করার পর অনেস্ট সিকিউরিটি সার্ভিসের পরিচালক নাছির উদ্দিন আমাদের কাজে থাকার নির্দেশ দেন। ঈদের আগেও তিনি বলেছেন, ঈদের পর আমরা বেতন পাব।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের একজন দায়িত্বশীল কমচারী জানালেন, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ প্রাপ্তদের ২ মাসের নিয়োগের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এদের কেউ কেউ কাজ ছেড়ে চলে গেছে, তবে বেশিরভাগেই গত ১১ মাস হয় বিনা বেতনে কাজ করছে। এদের কার্যকাল বাড়িয়ে অর্থ বরাদ্দের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত ১১ মাস এটি করা গেল না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মচারী বলেন, তাদের প্রশাসনিক অনুমোদনই ছিল না।
তিনি জানান, গত ৮ মে ২০১৯-২০. ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে আউট সোর্সিংয়ের এই পদগুলো। এরপর ১০ মে আবার লোক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল নিয়োগ প্রাপ্তদের কার্যকাল বাড়িয়ে অর্থ বরাদ্দের চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে এখনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
অনেস্ট সিকিউরিটি সার্ভিসের পরিচালক নাছির উদ্দিনের কাছে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার ভাই আমিনুল ইসলাম জানালেন, আমরা আশা করছি যারা কাজ করছে তাদেরকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সরকার ঠকাবে না। সারা দেশেই এভাবেই আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী রয়েছেন। নিশ্চয়ই সরকার তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন এবং তারা হয়তো শ্রমের মজুরি পাবেন।
সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন বলেন, আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সুনামগঞ্জের ২৩৪ কর্মচারীর অনুমোদনই ছিল না। অনুমোদন নিয়ে বেতন ভাতার বরাদ্দ চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি জুনের মধ্যে এরা বেতন পাবেন। তিনি জানান, বিনা বেতনে কর্মরত এসব কর্মচারীদের করোনাকালে দেড় লাখ টাকার খাদ্য সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।